রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ | ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৮ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | সকাল ৭:০৪:৫০
শিরোনাম
● মহাসড়ক পার হতে গিয়ে বাসচাপায় বৃদ্ধ নিহত ● দিল্লিতে বিক্ষোভে ধরপাকড়, সোমবার ফের বড় কর্মসূচি ● ইরানকে প্রধান প্রতিপক্ষ বললেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ● বইয়ের পাতায় আঁকা ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন-কান্না ● ইসলামে শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার গুরুত্ব ● গাড়ি চালানোর ইসলামী আদব ও শিষ্টাচার ● ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ, এবার আটক বলিউড তারকা ইমরান খান ● উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মির্জা ফয়সল ● বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক ৩ ● আইফোন ১৮ প্রোতে রং ফিকে হওয়ার অভিযোগ ● মহাসড়ক পার হতে গিয়ে বাসচাপায় বৃদ্ধ নিহত ● দিল্লিতে বিক্ষোভে ধরপাকড়, সোমবার ফের বড় কর্মসূচি ● ইরানকে প্রধান প্রতিপক্ষ বললেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ● বইয়ের পাতায় আঁকা ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন-কান্না ● ইসলামে শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুস্থতার গুরুত্ব ● গাড়ি চালানোর ইসলামী আদব ও শিষ্টাচার ● ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ, এবার আটক বলিউড তারকা ইমরান খান ● উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি মির্জা ফয়সল ● বেনাপোল বন্দর থেকে ৭ কোটি টাকার পণ্য পাচার, ঢাকায় আটক ৩ ● আইফোন ১৮ প্রোতে রং ফিকে হওয়ার অভিযোগ

বইয়ের পাতায় আঁকা ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন-কান্না

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২
শেয়ার: mail
বইয়ের পাতায় আঁকা ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন-কান্না

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বই উদ্ধার করে পাঠকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কয়েকজন ফিলিস্তিনি। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে লাইব্রেরি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ধ্বংস হলেও জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁদের ভালোবাসা থেমে নেই। তাঁবু, ফুটপাত কিংবা অস্থায়ী স্টলে গড়ে উঠছে ছোট ছোট লাইব্রেরি। তাঁদের কাছে বই শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং একটি প্রজন্মের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রতীক।

দক্ষিণ গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের একটি ছোট তাঁবুর মেঝেতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ইসরায়েলি হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েক ডজন বই। পাঠকদের জন্য সেখানে নেই কোনো তাক, আলমারি কিংবা টেবিল। কিছু বই ফুটপাতেও ছড়িয়ে আছে। বইগুলোর মালিক সেগুলো পরিষ্কার, গোছানো ও সংরক্ষণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া এলাকার ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি লাইব্রেরির ধ্বংসস্তূপ থেকে দীর্ঘ ও কঠিন উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে বইগুলো দক্ষিণে নিয়ে আসা হয়েছে।

৩৫ বছর ধরে বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসা আল-আসার লাইব্রেরির মালিক মুহাম্মদ সাদ নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, লাইব্রেরিতে ফিরে গিয়ে তিনি সেটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখেন। কোনো সরঞ্জাম বা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই একটি ছোট হাতুড়ি ব্যবহার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রমের পর তিনি ধ্বংসস্তূপের ভেতরে প্রবেশের পথ তৈরি করেন। এরপর একে একে বইগুলো উদ্ধার করতে শুরু করেন।

মুহাম্মদ তাঁর প্রায় এক লাখ বইয়ের সংগ্রহের একটি অংশ উদ্ধার করতে পেরেছেন। তবে আরও অনেক বই এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছে। কয়েক দশকের বই সংগ্রহের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি তাঁকে অবশিষ্ট বইগুলো উদ্ধারে অনুপ্রাণিত করছে।

মুহাম্মদ সাদের এই প্রচেষ্টা বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগ নয়। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালে ব্যক্তি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে লাইব্রেরি, বাড়িঘর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে অবশিষ্ট বই সংগ্রহ করে পাঠকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ধ্বংসস্তূপের পাশে কিংবা অস্থায়ী তাঁবুতেও গড়ে উঠছে বই পড়ার জায়গা।

এমনই একজন ৪১ বছর বয়সী নিভিন আল-গারাবলি। ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি লাইব্রেরির ধ্বংসস্তূপ থেকে বই সংগ্রহ করে তিনি গাজার একটি রাস্তার ফুটপাতে লাইব্রেরি গড়ে তুলেছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে বই সংগ্রহের পর একটি তাঁবুর ভেতরে ছোট স্টলও খুলেছেন তিনি।

মুহাম্মদ সাদের মতো নিভিনও টিকে যাওয়া বইগুলো আবার পাঠকদের হাতে তুলে দিতে চান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জ্ঞানসন্ধানীদের কাছে এসব বই পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। কোনো শিক্ষার্থীর বই কেনার সামর্থ্য না থাকলে বিনা মূল্যে বই দেওয়ার ব্যবস্থাও রেখেছেন।

নিভিনের ভাষায়, তাঁর লক্ষ্য এমন একটি প্রজন্মকে রক্ষা করা, যাদের তারা ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। তাঁর বিশ্বাস, জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়েই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অস্ত্র হলো জ্ঞান।

৩০ বছর বয়সী ফার্মাসিস্ট ওমর হামাদও বই উদ্ধারের কাজে নেমেছেন। প্রথমে বেইত হানুনে নিজের লাইব্রেরি থেকে বই উদ্ধার শুরু করেন তিনি। প্রায় ১২০টি বই উদ্ধারের পরও সন্তুষ্ট না হয়ে ইসরায়েলের যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যাওয়া অন্যান্য স্থানেও বই খুঁজতে থাকেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ বড় একটি প্রকল্পে পরিণত হয়। এর নাম দেওয়া হয় ‘ফিনিক্স লাইব্রেরি’। ছাই থেকে পুনরায় উঠে আসা পৌরাণিক পাখি ফিনিক্সের নাম অনুসারে এই নামকরণ করা হয়েছে।

লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলার ঘটনা ওমরের মনে বই উদ্ধারের প্রতি বিশেষ দায়িত্ববোধ তৈরি করে। শৈশব থেকেই বিভিন্ন উৎস থেকে জ্ঞান আহরণের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহই যুদ্ধের মধ্যেও বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।

ওমর স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রতিবার একটি বই উদ্ধার করতে পারলে তাঁর মনে হয়েছে, যেন একজন মানুষকে বাঁচিয়ে তুলেছেন। ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইসলামিক ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির ধ্বংসস্তূপ থেকেও তিনি বই উদ্ধার করেছেন। সেখানে এমন কিছু বই পেয়েছেন, যেগুলোর কোনো কোনোটি ১৯৪৮ সালের আগের এবং গাজায় ছাপা হয়েছিল।

তাঁর উদ্ধার তৎপরতার পরিসর দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রথম দিন ওমর প্রায় ৪০০টি বই উদ্ধার করেন। পরদিন পান আরও ৩০০টি। এসব বইয়ের মধ্যে বন্ধুদের ব্যক্তিগত লাইব্রেরির বইও ছিল। যেগুলো মেরামত করা সম্ভব, সেগুলো মেরামত করেন তিনি। অন্য বইগুলোর অবশিষ্ট অংশও সংরক্ষণের চেষ্টা করেন।

বর্তমানে ফিনিক্স লাইব্রেরিতে প্রায় ৭ হাজার ৩০০টি বই রয়েছে। এর মধ্যে ওমরের নিজের উদ্ধার করা বইয়ের পাশাপাশি পরিবার, বুদ্ধিজীবী, চিকিৎসক ও গবেষকদের দান করা বইও রয়েছে। এ ছাড়া যেসব স্টলে কেজি দরে বই বিক্রি করা হতো, সেখান থেকেও তিনি বই কিনেছেন। নিজের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করতে আরও প্রায় ৪ হাজার বই কিনেছেন ও ছাপিয়ে নিয়েছেন। তাঁর সংগ্রহের বড় একটি অংশ তৈরি হয়েছে এসব বই দিয়ে।

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপে হারিয়ে যাওয়া বইগুলো উদ্ধার করে নতুন করে পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা গাজায় জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ধ্বংসের মধ্যেও বইয়ের প্রতি ভালোবাসা, শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঘিরে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন এসব ফিলিস্তিনি।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

বইয়ের পাতায় আঁকা ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন-কান্না

বিস্তারিত কমেন্টে