বাংলাদেশ ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মাড়ির অবহেলা, শিশুর জন্য বড় ঝুঁকি

গর্ভাবস্থায় শুধু শরীরের সাধারণ যত্ন নয়, মুখের স্বাস্থ্য বা ওরাল হাইজিন বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের দাঁত ও মাড়ির সমস্যার প্রভাব সরাসরি গর্ভস্থ শিশুর ওপর পড়তে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব সিডনির একদল গবেষকের গবেষণায় উঠে এসেছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জিনজিভাইটিসসহ দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম, এমনকি কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকিও বাড়ে।

সমস্যার মূল কারণ কী:
চিকিৎসকদের মতে, মুখের অপরিচ্ছন্নতাই এ ধরনের জটিলতার প্রধান কারণ। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা, খাবারের পর মুখ পরিষ্কার না রাখা ইত্যাদি থেকে শুরু হয় সংক্রমণ। পরে তা মাড়ির প্রদাহ, দাঁতে গর্ত ও অন্যান্য জটিলতায় রূপ নেয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দাঁত বা মাড়িতে সংক্রমণ হলে জীবাণু রক্তে মিশে ভ্রূণের কাছেও পৌঁছাতে পারে। এতে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ঝুঁকি কতটা গুরুতর:
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাড়ির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলে—

সময়ের আগেই সন্তানের জন্ম হতে পারে
নবজাতকের ওজন কম হতে পারে
গুরুতর ক্ষেত্রে গর্ভপাতের আশঙ্কাও থাকে

এছাড়া মায়ের শরীরেও হজমের সমস্যা, হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—

প্রতিদিন অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা
খাবারের পর ভালোভাবে কুলি করা
দাঁত বা মাড়িতে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

উপসংহার:
গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকতে শুধু পুষ্টিকর খাবার ও বিশ্রামই যথেষ্ট নয়, মুখের স্বাস্থ্য রক্ষাও জরুরি। সচেতনতা ও নিয়মিত যত্নই পারে মা ও অনাগত শিশুকে ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

গর্ভাবস্থায় দাঁত ও মাড়ির অবহেলা, শিশুর জন্য বড় ঝুঁকি

প্রকাশিত: ০৪:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

গর্ভাবস্থায় শুধু শরীরের সাধারণ যত্ন নয়, মুখের স্বাস্থ্য বা ওরাল হাইজিন বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের দাঁত ও মাড়ির সমস্যার প্রভাব সরাসরি গর্ভস্থ শিশুর ওপর পড়তে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব সিডনির একদল গবেষকের গবেষণায় উঠে এসেছে, অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জিনজিভাইটিসসহ দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম, এমনকি কম ওজনের শিশু জন্মের ঝুঁকিও বাড়ে।

সমস্যার মূল কারণ কী:
চিকিৎসকদের মতে, মুখের অপরিচ্ছন্নতাই এ ধরনের জটিলতার প্রধান কারণ। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা, খাবারের পর মুখ পরিষ্কার না রাখা ইত্যাদি থেকে শুরু হয় সংক্রমণ। পরে তা মাড়ির প্রদাহ, দাঁতে গর্ত ও অন্যান্য জটিলতায় রূপ নেয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দাঁত বা মাড়িতে সংক্রমণ হলে জীবাণু রক্তে মিশে ভ্রূণের কাছেও পৌঁছাতে পারে। এতে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ঝুঁকি কতটা গুরুতর:
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাড়ির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলে—

সময়ের আগেই সন্তানের জন্ম হতে পারে
নবজাতকের ওজন কম হতে পারে
গুরুতর ক্ষেত্রে গর্ভপাতের আশঙ্কাও থাকে

এছাড়া মায়ের শরীরেও হজমের সমস্যা, হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব—

প্রতিদিন অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করা
খাবারের পর ভালোভাবে কুলি করা
দাঁত বা মাড়িতে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

উপসংহার:
গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকতে শুধু পুষ্টিকর খাবার ও বিশ্রামই যথেষ্ট নয়, মুখের স্বাস্থ্য রক্ষাও জরুরি। সচেতনতা ও নিয়মিত যত্নই পারে মা ও অনাগত শিশুকে ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

kalprakash.com/SS