সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২২ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | দুপুর ১২:০৩:৪৯
শিরোনাম
● শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু জীবিকা নয়, ভালো মানুষ হওয়া: মন্ত্রী রবিউল ● রাশিয়ায় প্লেগে গবেষকের মৃত্যু, শতাধিক কোয়ারেন্টাইনে, ৫ হাসপাতাল বন্ধ ● হুমকির মুখে ব্রিটেন থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র ● দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ ● ‘দেশের সব নাগরিকের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’ ● বিশ্ব বসতি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী ● কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা নিয়ে যা বললেন রাশেদ খাঁন ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে জয়পুরহাটে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু ● নাটোরে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, আটক ৩ ● দেবিদ্বারে দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ● শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু জীবিকা নয়, ভালো মানুষ হওয়া: মন্ত্রী রবিউল ● রাশিয়ায় প্লেগে গবেষকের মৃত্যু, শতাধিক কোয়ারেন্টাইনে, ৫ হাসপাতাল বন্ধ ● হুমকির মুখে ব্রিটেন থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র ● দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ ● ‘দেশের সব নাগরিকের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’ ● বিশ্ব বসতি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী ● কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা নিয়ে যা বললেন রাশেদ খাঁন ● ডেঙ্গু প্রতিরোধে জয়পুরহাটে জামায়াতের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু ● নাটোরে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, আটক ৩ ● দেবিদ্বারে দক্ষিণ গুনাইঘর ইউনিয়ন বিএনপির আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

একই ক্যাম্পাসে দুই ভিন্ন জীবন: আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার পার্থক্য

আজিজুর রহমান নাহিদ, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
আজিজুর রহমান নাহিদ, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯
শেয়ার: mail
একই ক্যাম্পাসে দুই ভিন্ন জীবন: আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার পার্থক্য

সকালটা প্রায় একই। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই ক্লাসে বসেন দুজন শিক্ষার্থী। একই শিক্ষক, একই সিলেবাস, একই পরীক্ষা, তবু বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁদের এক নয়।

একজন ঘুম থেকে উঠে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্যাগ নিয়ে হলের ডাইনিংয়ে বা শান্তিনিকেতনে নাশতা করে ক্লাসে চলে যেতে পারেন। ক্লাস শেষে হেঁটে বা ই-কারে স্বল্প দূরত্বে নিজ কক্ষে ফিরতে পারেন। সন্ধ্যায় বন্ধুর সঙ্গে দেখা, আড্ডা, রাতে পড়াশোনা, সবকিছুই ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক।

অন্যজনকে ক্লাস শুরুর অনেক আগেই মাইজদীর মেস থেকে বের হতে হয়। ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে নির্ভর করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ওপর। সিট পেলে ভালো, না পেলে ভোগান্তি। ক্লাস শেষ হওয়ার পর কিংবা ক্লাসে থাকতেই নির্দিষ্ট সময়ের বাস ধরার চিন্তা থাকে। একটি দিন শেষ হওয়ার আগেই যাতায়াতের আরেকটি অধ্যায় শুরু হয়। একই ক্যাম্পাস, কিন্তু অভিজ্ঞতা এক নয়। একজনের কাছে ক্যাম্পাস অনেকটা নিজের বাসা, অন্যজনের কাছে ক্যাম্পাসে আসাটাই প্রতিদিনের একটি যাত্রা।

অনাবাসিক শিক্ষার্থীর দিন শুরু হয় ঘড়ির কাঁটার আগেই। একটি বাস মিস মানে একটি দিনের হিসাব বদলে যাওয়া। ফলে অনাবাসিক শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে যাতায়াত একটি আলাদা অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়।

আবার হলে থাকা শিক্ষার্থীদের জীবন মানেই যে সব সময় স্বাচ্ছন্দ্যের, তা নয়। হলের নিজস্ব সমস্যা আছে। কক্ষের পরিবেশ, খাবার, আসন, ব্যক্তিগত পরিসর, পানি বা অন্যান্য দৈনন্দিন সুবিধা নিয়ে অভিযোগ তো রয়েছেই। তারপরও আবাসিক জীবনের একটি মৌলিক সুবিধা হলো ক্যাম্পাসের সঙ্গে শারীরিক দূরত্ব কম।

সকালের ক্লাস, দুপুরের লাইব্রেরি, বিকেলের সংগঠন বা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, সন্ধ্যার আড্ডা, রাতের পড়াশোনা, সবকিছুতেই একজন আবাসিক শিক্ষার্থী তুলনামূলক সহজে অংশ নিতে পারেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে এই সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সংগঠনের সভা যদি বিকেলে হয় অথবা কোনো অনুষ্ঠান সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে, আবাসিক শিক্ষার্থীর জন্য সেখানে থাকা তুলনামূলক সহজ। অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে অনেক সময় একই পরিস্থিতি অন্যভাবে হিসাব করতে হয়। শেষ বাস কখন, কীভাবে ফিরবেন, অতিরিক্ত খরচ কত হবে, এসবও বিবেচনায় রাখতে হয়।

এভাবে আবাসিকতা শুধু থাকার জায়গা নয়; এটি অনেক সময় টাইম ম্যানেজমেন্টের ধরনও বদলে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে দুজন শিক্ষার্থীর জন্য একই সময় নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তব জীবনে তাঁদের হাতে থাকা সময় সমান নয়।

একজন আবাসিক শিক্ষার্থী ক্লাসের আগে বা পরে লাইব্রেরিতে কয়েক ঘণ্টা থাকতে পারেন। বিকেলে ময়নাদ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। একইভাবে ক্যাম্পাসের কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন, ক্লাবের কর্মসূচি বা একাডেমিক আলোচনায় অংশগ্রহণ আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য হয়ে যায়। অন্যদিকে অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আরেকটু ক্যাম্পাসে থাকবেন, নাকি শেষ বাসটা ধরবেন।

এটি কখনো কখনো বড় পার্থক্য তৈরি করে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু ক্লাসরুমে হয় না। লাইব্রেরিতে, সেমিনারে, সংগঠনের কার্যক্রমে, গবেষণা আলোচনায় কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মধ্যেও শেখার সুযোগ তৈরি হয়।

আবাসিক শিক্ষার্থীর কাছে রাত ৯টায় কোনো সভা শেষ হওয়া হয়তো শুধুই সভা শেষ হওয়া। অনাবাসিক শিক্ষার্থীর কাছে সেটি হতে পারে আরও একটি সিদ্ধান্তের প্রশ্ন, ফিরব কীভাবে? এই পার্থক্য ক্লাসের ফলাফলের সরাসরি মাপকাঠি নয়; কিন্তু শিক্ষার্থীর সময়, স্বাধীনতা ও ক্যাম্পাসে অংশগ্রহণের সুযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।

আবাসিক মানেই সুযোগ বেশি, এমন সরল সমীকরণ ঠিক নয়। তবে পুরো বিষয়টিকে আবাসিকেরা সুবিধায়, অনাবাসিকেরা বঞ্চিত, এভাবে দেখাও ঠিক হবে না।

হলে থাকা মানেই সব সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা নয়। আবাসিক হলগুলোতেও নিরাপদ খাদ্য ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদেরও কিছু নিজস্ব সুবিধা থাকতে পারে। মেস বা পরিবারের সঙ্গে থাকার কারণে কেউ হয়তো নিজের পছন্দমতো খাবার, ব্যক্তিগত পরিবেশ কিংবা আলাদা থাকার সুবিধা পান। কারও আবার পরিবার কাছাকাছি হওয়ায় মানসিক ও সামাজিক সহায়তাও বেশি থাকে। মেস বা হলে মাসিক খরচও প্রায়ই একই।

তাই আবাসিক ও অনাবাসিক জীবনকে শুধু ভালো ও খারাপ, এই দুই ভাগে দেখা যায় না। বরং দুটির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আলাদা।

বিভাজনটা কোথায় তৈরি হয়?

বাস্তব সমস্যা শুরু হয় তখন, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সেবা বা কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হয় যে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীর ওপর তার প্রভাব সমান থাকে না। যেমন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস কিংবা বিভিন্ন জাতীয় দিবসে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ফিস্ট দেওয়া হয়। কোন হলের আয়োজন এগিয়ে, তা নিয়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। কিন্তু এসব থেকে বঞ্চিত থাকেন অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জীবনযাপনের এই পার্থক্য এখন শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয় নয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, পরিবহনব্যবস্থা, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

নোবিপ্রবিতে বর্তমানে পাঁচটি আবাসিক হল রয়েছে। কিন্তু আবাসিক সুবিধার পরিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় কতটা, সেটিই বড় প্রশ্ন। প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়জীবন চালাতে হচ্ছে।

আবাসন সংকট সমাধানে নতুন হল প্রয়োজন, এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু পাশাপাশি প্রয়োজন হতে পারে আরও সমন্বিত পরিবহনব্যবস্থা, নির্ভরযোগ্য সময়সূচি, পর্যাপ্ত বাস, ক্যাম্পাসে দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী সুবিধা এবং একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের এমন পরিকল্পনা, যাতে দূরে থাকা শিক্ষার্থীরাও সমানভাবে অংশ নিতে পারেন।

অন্যদিকে আবাসিক হলগুলোর ক্ষেত্রেও শুধু সিট বাড়ানো নয়, বসবাসের মান, পড়াশোনার পরিবেশ, ইন্টারনেট, নিরাপত্তা ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

শেষ কথা, এটি কেবল দুটি আলাদা জীবনযাপনের গল্প নয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন, পরিবহন ও ক্যাম্পাস-সুযোগের কাঠামো কীভাবে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে, এটি তারও একটি চিত্র।

নোবিপ্রবির ক্যাম্পাসে দুজন শিক্ষার্থী একই পরিচয় বহন করেন, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। শেষ পর্যন্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয় তখনই সবার জন্য সমানভাবে নিজের জায়গা হয়ে ওঠে, যখন হলের ঠিকানা বা মেসের ঠিকানা নয়, শিক্ষার্থী পরিচয়টাই হয় সুযোগ পাওয়ার প্রধান পরিচয়।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

একই ক্যাম্পাসে দুই ভিন্ন জীবন: আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার পার্থক্য

বিস্তারিত কমেন্টে