ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। ক্লান্তি, নাক বন্ধ থাকা, ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা ঘুমের ভঙ্গির মতো বিভিন্ন কারণে নাক ডাকতে পারেন কেউ কেউ। তবে কিছু ক্ষেত্রে শরীরে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও ঘুমের মান ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
বিশেষ করে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি নিয়ে এ ধরনের সম্পর্কের কথা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে শুধু ভিটামিন ডি কম থাকলেই নাক ডাকে, এমন সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত নয়। তাই নিয়মিত বা খুব জোরে নাক ডাকলে শুধু ভিটামিনের ঘাটতি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ভিটামিন ডি-এর সঙ্গে সম্পর্ক কোথায়?
ভিটামিন ডি শরীরের হাড় ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে এর ঘাটতি থাকলে ঘুমের মান খারাপ হওয়া বা ঘুমসংক্রান্ত কিছু সমস্যার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে।
তবে নাক ডাকার অন্যতম পরিচিত কারণ হলো ঘুমের সময় শ্বাসনালি আংশিকভাবে সংকুচিত হয়ে যাওয়া। নাক বা গলার টিস্যু দিয়ে বাতাস চলাচলের সময় কম্পন তৈরি হলে নাক ডাকার শব্দ হয়।
শুধু ভিটামিনের ঘাটতি নয়
নাক ডাকার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন:
ওজন বেড়ে যাওয়া
নাক বন্ধ থাকা বা নাকের ভেতরের সমস্যা
চিৎ হয়ে ঘুমানো
ধূমপান
অ্যালকোহল গ্রহণ
ঘুমের ওষুধ বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাব
গলা ও শ্বাসনালির গঠনের কিছু বৈশিষ্ট্য
এ ছাড়া অতিরিক্ত নাক ডাকা কখনো কখনো অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। এ সমস্যায় ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং পরে আবার শুরু হয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
শুধু মাঝেমধ্যে নাক ডাকলে সাধারণত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে নিয়মিত ও খুব জোরে নাক ডাকার সঙ্গে যদি ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, দম বন্ধ লাগা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, সকালে মাথাব্যথা বা সারা দিন অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শরীরে ভিটামিন ডি বা অন্য কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি আছে কি না, প্রয়োজন হলে পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু নাক ডাকার কারণে অতিরিক্ত ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণও ঠিক নয়।
তাই নাক ডাকার সমস্যা থাকলে শুধু ‘কোন ভিটামিন কম’ খোঁজার বদলে এর পেছনে নাকের সমস্যা, ঘুমের ব্যাধি বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি।
kalprakash.com/IM