যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ডাবলিনে জামাইকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে ৭৬ বছর বয়সী এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি জোনাথন ম্যাককিন্সি (৪০)। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ডাবলিন পুলিশ সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডসের একটি পার্কিং লটে ম্যাককিন্সিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর শরীরে একাধিক গুলির ক্ষত ছিল। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ এ ঘটনায় শৌইয়ং ঝাং ও শিলি চেনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী এবং ডাবলিনের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা নিহত ম্যাককিন্সির স্ত্রীর বাবা-মা।
ডাবলিনের বাসিন্দা আসাদ রাজাবি জানান, শনিবার বিকেলে একটি মুদি দোকানের কাছে নিজের গাড়িতে থাকার সময় তিনি পার্কের দিক থেকে পাঁচ থেকে ছয়টি গুলির মতো শব্দ শুনতে পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পার্কিং লটে একজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। একই সময় এক পুরুষ ও এক নারীকে ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যেতে দেখেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় একই সময়ে একজন পুলিশ সার্জেন্ট গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে পড়ে থাকা একজনকে দেখতে পান। তিনি গাড়ি থামিয়ে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে পার্কে থাকা লোকজনও ৯১১ নম্বরে ফোন করে জরুরি সহায়তা চান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কাছাকাছি থাকা এক পুরুষ ও এক নারীকে শনাক্ত করে। পরে তাঁদের ঝাং ও চেন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
হত্যার সম্ভাব্য কারণ পুলিশ প্রকাশ করেনি। তবে আদালতের নথি ও পূর্ববর্তী অভিযোগে নিহত ম্যাককিন্সি এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের তথ্য উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুজনই একে অপরের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে ম্যাককিন্সি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদনও করেন।
ম্যাককিন্সি তাঁর আবেদনে অভিযোগ করেছিলেন, স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁর ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের কারণে তাঁকে হয়রানি করতেন। তিনি তাঁর শ্বশুরের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছিলেন।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাংয়ের করা আবেদনে ম্যাককিন্সির বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। একটি ঘটনায় তিনি দাবি করেন, ঝগড়ার সময় ম্যাককিন্সি তাঁকে টেনে টেবিলের কোণায় ফেলে দেন, যার ফলে তাঁর পিঠে আঘাত লাগে।
ম্যাককিন্সির বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে শিশু নির্যাতনের দুটি লঘু অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি উভয় অভিযোগেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরের অক্টোবরে কর্মকর্তারা জ্যাংয়ের সঙ্গে কথা বলার পর ম্যাককিন্সির বাসায় যান। সেখানে তাঁরা ওপরতলার একটি ঘরে দুই বছর বয়সী একটি শিশুকে একা অবস্থায় দেখতে পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের অভিযোগ ছিল, শিশুটিকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় একা রাখা হয়েছিল। পরে এ ঘটনায় ম্যাককিন্সির বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব ওই দিন তাঁর স্ত্রীর ছিল এবং শিশুটি ঘুমিয়ে থাকার বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি।
পুলিশ ঝাং ও চেনের বিরুদ্ধে হত্যার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের গুরুতর অপব্যবহার, ষড়যন্ত্র এবং শিশুকে গুরুতর শারীরিক আঘাত বা মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগেও ব্যবস্থা নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁদের জামিন ছাড়াই হেফাজতে রাখা হয়েছে। বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো পুলিশ প্রকাশ করেনি। অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী রয়েছেন কি না, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
kalprakash.com/IM