বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ | ৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৪:১৬:২৮
শিরোনাম
● সৌদিকে রক্ষার অঙ্গীকারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় মেতেছে মিশর ● বিজয়া দশমী আজ ● দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের ● আবারও চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, কবে থেকে আবেদন? ● দুর্গাপূজার নিরাপত্তা দেখতে চিতলমারীর চণ্ডিভিটায় ডিসি-এসপি ● খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চাইনি, যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন চাই: মেঘনা আলম ● লাকসামে কর্ণফুলী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকামুখী যোগাযোগ বন্ধ ● নাসিরনগরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে যুবককে ছুরিকাঘাত ● সাত দিন বন্ধ থাকবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা ● ফুটপাতে খাবারের দোকান দিতেও লাগবে লাইসেন্স, কার্যকর ১ নভেম্বর ● সৌদিকে রক্ষার অঙ্গীকারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় মেতেছে মিশর ● বিজয়া দশমী আজ ● দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের ● আবারও চালু হচ্ছে ডিভি লটারি, কবে থেকে আবেদন? ● দুর্গাপূজার নিরাপত্তা দেখতে চিতলমারীর চণ্ডিভিটায় ডিসি-এসপি ● খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চাইনি, যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন চাই: মেঘনা আলম ● লাকসামে কর্ণফুলী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকামুখী যোগাযোগ বন্ধ ● নাসিরনগরে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে যুবককে ছুরিকাঘাত ● সাত দিন বন্ধ থাকবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সেবা ● ফুটপাতে খাবারের দোকান দিতেও লাগবে লাইসেন্স, কার্যকর ১ নভেম্বর

সৌদিকে রক্ষার অঙ্গীকারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় মেতেছে মিশর

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪
শেয়ার: mail
সৌদিকে রক্ষার অঙ্গীকারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় মেতেছে মিশর

ইয়েমেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যখন নিজের সম্পৃক্ততা সীমিত করছে, তখন সৌদি আরবকে রক্ষায় মিশরের অঙ্গীকারকে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়াখেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন মিডল ইস্ট আই-এর কলামিস্ট শাদি ইবরাহিম। ‘ইয়েমেন ওয়ার: হোয়াই ইজিপ্টস ভাউ টু ডিফেন্ড সৌদি অ্যারাবিয়া আ রিস্কি গ্যাম্বল’ শিরোনামের এক কলামে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তাঁর মতামতটির বাংলায় ছায়া অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হলো।

ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরবকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিশর। কিন্তু এই প্রতিশ্রুতি পালন করতে গিয়ে মিশর নিজেই সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র যখন এই সংঘাতে নিজের সম্পৃক্ততা সীমিত করছে, তখন মিশর নিজেদের সামরিক শক্তি ব্যবহারের অঙ্গীকার করছে। কিন্তু দেশটি কী লক্ষ্য অর্জন করতে চায় বা কীভাবে সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা নির্ধারণ করেনি।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে সুয়েজ খালের দিকে অগ্রসর হওয়া জাহাজ, সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান পাইপলাইন, জ্বালানি টার্মিনাল ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মিশরকে বিবেচনা করতে হবে।

এর পরিণতি কেবল কায়রো যে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবে, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং যেসব অবকাঠামোর মাধ্যমে মিশর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে এবং নিজের অর্থনীতিতে জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহ নিশ্চিত করে, সেগুলোও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

সুয়েজ খালের আয় ক্ষতিগ্রস্ত করতে হুথিদের সরাসরি খালটিতে হামলা চালানোর প্রয়োজন হবে না। আরও দক্ষিণে জাহাজ চলাচলের পথে হুমকি সৃষ্টি করেই তারা জাহাজ চলাচল নিরুৎসাহিত করতে পারে, পরিবহন ব্যয় বাড়াতে পারে এবং জাহাজগুলোকে দীর্ঘতর বিকল্প পথে চলতে বাধ্য করতে পারে। এ ক্ষেত্রে নৌপথটি প্রযুক্তিগতভাবে চলাচলের উপযোগী থাকলেও খালটির অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করে যে বিপুল জাহাজ চলাচল, তা অন্য পথে সরে যেতে পারে।

তবে কায়রোকে আরও গুরুতর একটি পরিস্থিতির কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সুয়েজ খালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা হতে পারে, যার ফলে মিশর জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে।

এটি এমন একটি ঝুঁকি, যা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তবে একে হুথিদের নিশ্চিত হামলা-পরিকল্পনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একইভাবে এ ধরনের অভিযান সফল হবেই, এমন পূর্বাভাস দেওয়ারও ভিত্তি নেই।

এ ধরনের পরিস্থিতি হুথি ও ইরানের স্বার্থে যেতে পারে। কারণ সুয়েজ খাল ও লোহিত সাগর দিয়ে নৌচলাচল বাধাগ্রস্ত হলে ভূমধ্যসাগর থেকে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নৌবাহিনীর জাহাজ চলাচলও বিঘ্নিত হতে পারে।

জুলাই মাসে দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা মিশর কী ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়তে পারে, তার একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। হামলার জন্য কে দায়ী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাই এটিকে হুথিদের পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো বার্তা বলে নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। তবু ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, মিশরের জলসীমায় হামলা কীভাবে জাহাজ চলাচল, জ্বালানি রপ্তানি এবং সামুদ্রিক অবকাঠামোর ওপর আস্থাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

মিশর সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে এই ঝুঁকি সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান পাইপলাইন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি অবকাঠামো, যার মধ্যে টার্মিনাল ও জ্বালানি সংরক্ষণাগারও রয়েছে, পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

সীমা নির্ধারণ করবে কে?

সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা থেকে মিশরের এই ধারণা করা উচিত নয় যে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে বারবার হামলার ঘটনা সৌদি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। এদিকে ওয়াশিংটন গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিলেও সৌদি আরবের অনুরোধ অনুযায়ী মার্কিন বাহিনীর সরাসরি হামলা চালাতে সম্মত হয়নি।

সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি মিশরের সাম্প্রতিক অঙ্গীকারের পেছনে রয়েছে এই অনিশ্চয়তাগুলো। দুই দেশের সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বক্তব্যের আড়ালে এসব বিষয় যতটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত, বাস্তবে ততটা পাচ্ছে না।

মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সাম্প্রতিক ভাষণটি যেন ধোঁয়ার পর্দার মতো কাজ করেছে। ২০৩০ সালে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া এবং সামরিক একাডেমির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতাদের গড়ে তোলার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য আরও তাৎক্ষণিক একটি সম্ভাবনাকে আড়াল করেছে। সেটি হলো সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় মিশরের সামরিক শক্তি নিয়োজিত করা।

যে দেশে জনপরিসরে বিতর্ক ও মতপ্রকাশের সুযোগ ধারাবাহিকভাবে সীমিত করা হয়েছে, সেখানে এই অস্পষ্টতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিশরীয় জনগণকে আরেকটি বিদেশি সামরিক অঙ্গীকারের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে বলা হচ্ছে, অথচ এর উদ্দেশ্য কী, এর সীমা কোথায় এবং এর মূল্য কত, সেসব বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হচ্ছে না।

১৭ অক্টোবর সিসি সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজন হলে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংসদের অনুমোদন চান। এর পর মিশরের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ সৌদি আরবকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ও সম্ভাব্য সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করে।

এই দুটি বক্তব্যের কোনোটিই প্রমাণ করে না যে মিশরীয় সেনারা ইয়েমেনে প্রবেশ করেছে। তবে সৌদি ভূখণ্ডকে রক্ষা করা এবং সৌদি আরবের যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেওয়ার মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মিশরের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে পরিষদ এককভাবে যুদ্ধের অনুমোদন দিতে পারে না। দেশটির সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণা করা বা বিদেশে যুদ্ধাভিযানে সেনা মোতায়েনের আগে প্রেসিডেন্টকে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয় এবং সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন নিতে হয়।

দেশে সংসদ না থাকলে সুপ্রিম কাউন্সিল অব দ্য আর্মড ফোর্সেসের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়। পাশাপাশি মন্ত্রিসভা ও জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ, উভয়ের অনুমোদনও প্রয়োজন।

১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ এক বিবৃতিতে সৌদি আরবকে সহায়তার অঙ্গীকার করে। একই সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর কথাও জানায়। এর আগে গত মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কায়রো সফর করেছিলেন।

বিবৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের লক্ষ্য কিংবা সেনা মোতায়েনের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে শুধু এই বিবৃতি থেকে কোনো কার্যকর সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বা সংবিধান নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

পরস্পরবিরোধী মূল্যায়ন

তবু জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের গঠন ও ভূমিকা সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে পরিচালিত এই পরিষদের ১৪ জন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ বেসামরিক কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ডার এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানেরা।

এর দায়িত্বের পরিধি প্রতিরক্ষানীতি ও সামরিক প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনীর বাজেট এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধন পর্যন্ত বিস্তৃত।

কিন্তু পরিষদের আলোচনা গোপনীয় হওয়ায় প্রকাশিত বিবৃতি থেকে মিশরীয় নাগরিকেরা জানতে পারেন না, কোন কোন ঝুঁকিকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে, আলোচনায় পরস্পরবিরোধী মূল্যায়ন উঠে এসেছিল কি না, কিংবা নেতৃত্ব কতটা মনে করে যে আপাতদৃষ্টিতে প্রতিরক্ষামূলক এই অঙ্গীকার ক্রমে আরও বিস্তৃত সামরিক সম্পৃক্ততায় রূপ নিতে পারে।

মিশরের সংসদকেও জনগণের সম্মতির সরল ও নির্ভুল প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবাধীন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংসদ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষমতাবান গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ও স্বার্থের ভারসাম্যও তুলে ধরে।

সংসদের গঠন স্বাধীনভাবে প্রকাশিত জনমতের তুলনায় সরকার-সমর্থক স্বার্থগোষ্ঠী এবং পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবকেই অনেক বেশি প্রতিফলিত করে।

এই বিতর্কে অনুপস্থিত রয়েছেন সেই সাধারণ মিশরীয় নাগরিকেরা, যাঁদের এই যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক মূল্য বহন করতে হবে। অথচ যে যুদ্ধের উদ্দেশ্য ও সীমা নির্ধারণে তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই এবং যা তাঁরা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগও পাননি, সেই যুদ্ধে তাঁদেরই সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

এভাবে মিশর এমন এক সামরিক অঙ্গীকারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার লক্ষ্য ও সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির আপাত স্থিতিশীলতার আড়ালে অমীমাংসিত অসন্তোষ রয়ে গেছে। সৌদি আরবকে কীভাবে এবং আদৌ সামরিকভাবে রক্ষা করা উচিত কি না, এ নিয়ে সরকার-সমর্থক রাজনীতিক ও গণমাধ্যমের বিভিন্ন কণ্ঠের মধ্যে মতপার্থক্য আরেকটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঐকমত্য কতটা বিস্তৃত?

এসব মতপার্থক্য থেকে সশস্ত্র বাহিনী বা জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে এগুলো দেখায়, সংহতির পক্ষে প্রকাশ্য ঘোষণা থেকেই সামরিক হস্তক্ষেপের পরিধি ও ব্যয় নিয়ে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ঐকমত্য রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যথেষ্ট নয়।

ইয়েমেনে মিশরের অতীত সামরিক হস্তক্ষেপের স্মৃতি এই সংশয়কে আরও তীব্র করে তোলে। ১৯৬০-এর দশকে মিশরের হস্তক্ষেপ সীমিত সেনা মোতায়েন দিয়ে শুরু হলেও তা ক্রমে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সম্পৃক্ততায় রূপ নেয়। এর ব্যয় বাড়তে থাকে, আর সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার সহজ কোনো পথও ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই ভিন্ন। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার মূল শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক: রাজনৈতিকভাবে কোথায় পৌঁছাতে হবে, তা নির্ধারিত না থাকলে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বও সমস্যার সমাধান করতে পারে না।

জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক থেকে বোঝা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু কোন কোন পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে, মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল কি না, কিংবা প্রতিপক্ষের কতটা পাল্টা আক্রমণ সহনীয় বলে বিবেচিত হয়েছে, তা প্রকাশিত হয়নি। পরামর্শ ও আলোচনা অপরিহার্য। কিন্তু সেগুলো নিশ্চিত করতে পারে না যে সংঘাতের বিস্তার পরিকল্পনাকারীদের পূর্বানুমান করা পরিস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

তাই সংসদে দ্বিধা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বকে শুধু প্রক্রিয়াগত বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না।

সোমবার সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সংসদের ভোটাভুটি ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে ইয়েমেন সংঘাতে মিশরের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে।

এই আপত্তি বা দ্বিধা সামরিক অভিযানের ব্যয় সম্পর্কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন মূল্যায়নের প্রতিফলন হতে পারে। তবে শুধু এ থেকেই জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদ বা সামরিক নেতৃত্বের অভ্যন্তরে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রমাণিত হয় না।

আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি

এর আগে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে আমি যুক্তি দিয়েছিলাম, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব হয়তো পেছনের সারিতে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। তারা সংঘাতের ওপর নিজেদের প্রভাব বজায় রাখবে, অথচ এর ব্যয় বহন করবে আঞ্চলিক শক্তিগুলো। মিশরের সামরিক হস্তক্ষেপ এই ব্যবস্থাকে আরও গভীর করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই তুরস্ককে এই সংঘাতে হস্তক্ষেপ করতে বলার সম্ভাবনার কথা তুলেছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু সৌদি অনুরোধ সত্ত্বেও সরাসরি হামলা চালাতে রাজি হয়নি।

এগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা। মিশরের উচিত প্রশ্ন তোলা, যে শক্তিশালী অংশীদারেরা নিজেদের ঝুঁকি সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাদের তুলনায় মিশরের সেনা ও সম্পদ কেন একই ধরনের ঝুঁকি বহন করবে?

সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের যথার্থ কারণ রয়েছে। একইভাবে লোহিত সাগরে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করাও মিশরের স্বার্থের অংশ। কিন্তু এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই ইয়েমেনের অভ্যন্তরে মিশরের সামরিক অভিযানকে অনিবার্য করে তোলে না।

এ ধরনের অভিযান হুথিদের দুর্বল করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ পূরণ করতে পারে। একই সঙ্গে সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতি, সামরিক ব্যয় এবং প্রতিশোধমূলক হামলার বড় অংশের বোঝা আঞ্চলিক দেশগুলোর সেনাবাহিনীর ওপর চাপিয়ে দিতে পারে।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বাইরে ছিল মিশর। এখন পৃথক একটি অঙ্গীকারের মাধ্যমে দেশটি একই ধরনের দায়িত্ব ও বোঝা বহন করার ঝুঁকিতে রয়েছে। মিশরীয় বাহিনী যখন যুদ্ধের সম্মুখসারির আরও কাছে এগিয়ে যাবে, তখন অন্য দেশগুলো কি সহায়ক ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

কায়রো যদি সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশটির বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাই বেশি। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পরবর্তী পর্যায়ে স্থলবাহিনী বা বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

বিমানবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য আকাশপথের হুমকি প্রতিহত করা, নজরদারি চালানো এবং অনুমোদন পেলে হামলা পরিচালনায় সহায়তা করতে পারে। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ নির্দিষ্ট নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিতে পারে।

কিন্তু হামলা অব্যাহত থাকলে সামরিক কমান্ডাররা আরও বিস্তৃত পরিসরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার অনুমতি, উন্নত গোয়েন্দা সহায়তা কিংবা স্থলভাগে সামরিক সদস্য মোতায়েনের দাবি জানাতে পারেন। তখন স্থলবাহিনী ও বিশেষ বাহিনী মোতায়েনকে এমন একটি অভিযানের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার উপায় হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে, যে অভিযানকে শুরুতে সীমিত বলে বিবেচনা করা হয়েছিল।

দেশের অভ্যন্তরে এর মূল্য

ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মিশরের সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ইয়েমেনে সামরিক সক্ষমতা ক্ষয় করা কৌশলগত অগ্রাধিকারের প্রশ্নও সামনে আনবে। বিশেষ করে সুদান ও আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলের পরিস্থিতিও যখন মিশরের মনোযোগ দাবি করছে, তখন এসব প্রশ্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য তৈরি করতে পারে।

কোনো অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে অভিহিত করলেই যে দেশটি পাল্টা হামলার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কায়রো সৌদি ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে আসা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা এবং সেটি উৎক্ষেপণের স্থানটিতে বোমা হামলা চালানোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। কিন্তু হুথিরা উভয় পদক্ষেপকেই একই সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

নিজেদের উদ্দেশ্যকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে, শুধু তার ভিত্তিতে মিশর প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করতে পারবে না।

মিশরের দুর্বলতা কেবল বিদেশে মোতায়েন করা সেনাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাল্টা হামলা কীভাবে এবং কোথায় হতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সামরিক কমান্ডার ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন মাত্রার ঝুঁকি গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে মতপার্থক্য আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

এটি জাতীয় অগ্রাধিকার নিয়েও একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে ধরে। মিশরের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের কাছাকাছি থাকা হুমকিগুলোর সমাধান যখন এখনো হয়নি, তখন সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় এত বিস্তৃত সামরিক অঙ্গীকারের কথা কেন ভাবা হচ্ছে? এসব হুমকির মধ্যে রয়েছে গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম বা ইথিওপিয়ার বৃহৎ পুনর্জাগরণ বাঁধ, সুদানের চলমান যুদ্ধ, ইসরায়েলের ফিলাডেলফি করিডর দখল এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সিনাই উপদ্বীপে স্থানান্তরিত করার সম্ভাবনা।

এই চ্যালেঞ্জগুলোর ধরন এক নয়। তবে সৌদি আরবকে রক্ষার ক্ষেত্রে যে জরুরি মনোভাব দেখানো হচ্ছে, তা অন্যান্য ক্ষেত্রে মিশরের সংযত অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এই বৈপরীত্য থেকে সামরিক বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভক্তি রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন ও মতপার্থক্য তৈরি হওয়ার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত এই হস্তক্ষেপের ব্যয় এসে পড়বে মিশরের সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর। জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে গেলে এবং জ্বালানি ও আমদানিপণ্যের ব্যয় বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়তে পারে। এতে মিশরীয়রা ইতিমধ্যেই যে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের চাপের মুখে রয়েছেন, তা আরও তীব্র হবে।

সামরিক অভিযানটি দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধে রূপ না নিলেও হস্তক্ষেপের পরিণতির আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে মিশরীয় জনগণকেই। সিদ্ধান্তটির সূচনা হতে পারে বিদেশে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের মাধ্যমে, কিন্তু এর পরিণতি বিদেশের মাটিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

সৌদিকে রক্ষার অঙ্গীকারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়ায় মেতেছে মিশর

বিস্তারিত কমেন্টে