বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মেঘনা আলম বলেছেন, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চাননি। মার্জিত পোশাক ও পরিপাটি সাজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মনোনয়ন কমিটির সামনে উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে মানুষের প্রতিক্রিয়ায় তাঁকে অবিকল খালেদা জিয়ার মতো দেখানোর বিষয়টি তাঁকে সম্মানিত ও আবেগাপ্লুত করেছে।
সম্প্রতি নিজের সাজসজ্জা, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে চেহারার সাদৃশ্য এবং বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরে দেওয়া এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেঘনা আলম।
তিনি বলেন, একই সাদা শাড়ি ও সাদা ওড়না তিনি দুই দিন আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরেছিলেন। দীর্ঘ সময় মানুষের ভিড়ে অপেক্ষা করতে হতে পারে, এমন চিন্তা থেকেই চুলে খোঁপা করে গিয়েছিলেন, যাতে গরমে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
মেঘনা আলম জানান, তিনি নিজে মেকআপ করতে পারেন না। মনোনয়ন-সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারে আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির জন্য পরিচিত এক ছোট বোনকে সাজিয়ে দিতে বলেছিলেন। নিজের গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই সাজের ধারণা দিতে পাকিস্তানের মরিয়ম নওয়াজ ও ক্রিকেটার ইরফান পাঠানের স্ত্রীর ছবি দেখিয়েছিলেন। চুলও এয়ার হোস্টেসদের মতো পরিপাটি করে বাঁধতে বলেছিলেন। তবে তাঁর সাজসজ্জায় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এতটা সাদৃশ্য তৈরি হবে, তা অন্যদের প্রতিক্রিয়া দেখার আগে বুঝতে পারেননি বলে জানান তিনি।
খালেদা জিয়ার প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা তুলে ধরে মেঘনা আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নাম, তা তিনি জানেন। জীবনে একবার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। তখন তাঁর বড় ফুপি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আরেকবার দেখা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। ছোটবেলায় সেই সুযোগ না পাওয়ার কষ্টে কেঁদেছিলেন বলেও জানান তিনি।
মেঘনা আলম আরও বলেন, তাঁর ইরানি বংশোদ্ভূত দাদির মুখের গড়ন ও গায়ের রঙের সঙ্গে খালেদা জিয়ার অদ্ভুত মিল অনুভব করতেন তিনি। বক্তব্যের শেষে খালেদা জিয়া, তাঁর দাদি ও ফুপির জন্য জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেঘনা আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও মনোনয়ন কমিটির সঙ্গে কথা বলার জন্য পাওয়া দুই মিনিটে তিনি সংসদে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নীতিনির্ধারণে পারদর্শী মানুষের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
তাঁর ভাষ্য, দলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের অনেক পথ রয়েছে। তবে জাতীয় সংসদে এমন মানুষেরও প্রয়োজন, যাঁদের সুশাসন, আইন ও নীতিনির্ধারণ, কূটনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতা এবং জলবায়ু ও জেন্ডার-সংবেদনশীল অ্যাডভোকেসি বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে।
মেঘনা আলমের মতে, সংসদ সদস্যপদ কেবল দলীয় আনুগত্যের প্রতিদান নয়। জাতীয় সংসদ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার জায়গাও নয়; এটি যুক্তি, তথ্য, নীতিবিশ্লেষণ ও জবাবদিহির মাধ্যমে জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিরোধী শক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংসদে যুক্তি, তথ্য, সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও মেধার ভিত্তিতে কথা বলতে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রয়োজন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নীতি বোঝার ক্ষমতা, কূটনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণাও গুরুত্বপূর্ণ।
নিজেকে নতুন মুখ উল্লেখ করে মেঘনা আলম বলেন, তাঁর বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ, জ্ঞান ও দক্ষতাকে যেন শুধু নতুন পরিচয়ের কারণে বিবেচনার বাইরে রাখা না হয়। তিনি অনুগ্রহ নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের সুযোগ চান, যাতে সংসদে দলের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের জন্যও কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।
বিএনপির কোনো বড় নেতা, মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যের সঙ্গে আত্মীয়তার পরিচয় দেখানোর সুযোগ নেই উল্লেখ করে মেঘনা আলম বলেন, তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি রক্তের নয়, আত্মার। নিজের জ্ঞান-বিবেচনা ও দেশের স্বার্থকে সামনে রেখেই বিএনপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নিজের পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর বাবা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-এর আহ্বায়ক। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর বাবা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সামনের সারিতে থেকে লড়াই করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মেঘনা আলম বলেন, তাঁর রাজনৈতিক পথচলা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, নিজস্ব চিন্তাভাবনা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয়।
ভবিষ্যতে বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলে তা তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গর্বের বিষয় হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংসদে প্রবীণদের প্রজ্ঞা ও তরুণদের কর্মক্ষমতার সমন্বয় হলে দেশ উপকৃত হবে।
kalprakash.com/IM