অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে পাহাড়ি এলাকায় কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন পাঁচ তরুণ। প্রায় দুই মাস আগে সাড়ে চার একর জমিতে তারা রোপণ করেছিলেন প্রায় চার হাজার ‘ইন্ডিয়ান ওডিসি থ্রি’ জাতের বারমাসি সাজনা গাছের চারা। কিন্তু ফলন পাওয়ার আগেই রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের হাতে তছনছ হয়ে গেছে তাদের সেই স্বপ্নের বাগান।
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলাধীন বেলছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড হরিধন মগপাড়া এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাগানের উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, বাগানের ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতার প্রায় সব সাজনা গাছ কেটে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শতাধিক তরমুজের চারাও উপড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও বাগানসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজেদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সুদীপ্ত জামানসহ পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তা প্রায় দুই মাস আগে হরিধন মগপাড়া এলাকায় সাড়ে চার একর জমিতে বারমাসি সাজনা বাগান গড়ে তোলেন। স্বল্প সময়ে উৎপাদনে যাওয়ার প্রত্যাশায় নিয়মিত পরিচর্যাও করছিলেন তারা।
বাগানের ম্যানেজার মো. শামসুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার সারা দিন তিনি বাগানেই ছিলেন। শুক্রবার সার ও কীটনাশক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে কেয়ারটেকারের ফোন পেয়ে বাগানে গিয়ে দেখেন, প্রায় সব সাজনা গাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই মাস ধরে গাছগুলোকে সন্তানের মতো পরিচর্যা করেছিলেন এবং এত বড় একটি বাগান এভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, তা তিনি ভাবতেও পারেননি।
উদ্যোক্তা মো. আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, শুরু থেকেই ইউপিডিএফের দায়িত্বপ্রাপ্ত অংসা মারমা বাগানটির বিরোধিতা করে আসছিলেন। তার দাবি, রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে বাগানের গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে, এতে তাদের অন্তত ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
তবে কারা গাছগুলো কেটেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি বাগানের কেয়ারটেকার সাইলাপ্রু মারমা। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাগান থেকে বাসায় চলে যান এবং শুক্রবার সকালে ফিরে এসে দেখেন সাজনা গাছের চারাগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে লিখিতভাবে জানানোর পাশাপাশি মাটিরাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান উদ্যোক্তা মো. আরিফুল ইসলাম।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে পলাশপুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি দল এবং মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।
একটি কৃষি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তার প্রায় দুই মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ এভাবে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হোক।
মাটিরাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশরাফুল মুন্না জানান, এ ঘটনায় থানায় এবং মাটিরাঙ্গা সেনা জোনে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ব্যবস্থা নেবে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ তরুণ উদ্যোক্তা।
kalprakash.com/IM