জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিত এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন অধিকার সংগঠন ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আয়োজিত অন্যতম বড় কর্মসূচির নেতৃত্ব দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (JVP)। সংগঠনটির যোগাযোগ পরিচালক সোনিয়া মেয়ারসন-নক্স জাতিসংঘের মঞ্চে নেতানিয়াহুর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়ে সমালোচনা করেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবিতে নিউইয়র্কে ইহুদি, ফিলিস্তিনি ও অন্যান্য অধিকারকর্মীরা প্রতিবাদ করছেন।
বিক্ষোভকারীরা ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে জাতিসংঘের আশপাশে অবস্থান নেন। একটি কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা ফার্স্ট অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেন। পুলিশ তাদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচিতে ১০৩ জনকে আটক করা হয় এবং পরে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন ও হান্না আইনবাইন্ডার, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে এবং কংগ্রেসের প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরও ছিলেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও প্রতিবাদের প্রভাব দেখা যায়। তার ভাষণ শুরু হলে বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। ভাষণে নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
নেতানিয়াহুর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সময়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে আলাদা কর্মসূচিতেও ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা অংশ নেন।
নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরকে ঘিরে রাজপথের প্রতিবাদ এবং সাধারণ পরিষদের ভেতরে প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট—দুই ঘটনাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে চলমান মতবিরোধকে নতুন করে সামনে এনেছে।