পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই, তবে ইমরান তাহিরের সেদিকে তাকানোর সময় নেই। এবারের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে তুলতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জ্যামাইকা কিংসমেনের কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে গেছে ৪৭ বছর বয়সী তাহিরের। তাতে যেন ক্ষুধাও কমেনি। আগামী বছর বয়স ৪৮ হলেও ক্যারিবিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে ফিরতে চান তিনি।
তাহির শুধু তার অভিজ্ঞতা দিয়েই নয়, পারফরম্যান্স দিয়েও সিপিএলের পরের মৌসুমে খেলার দাবিদার। সবশেষ আসরে যৌথ উইকেটশিকারি তিনি। সিপিএল শেষ হওয়ার পর জর্জটাউনে সংবাদ সম্মেলনে তাহির বলেন, ‘ফেরার খুব ইচ্ছা আছে আমার, আবার খেলতে চাই। কারণ আমি একে আমার বাড়ি মনে করি। এখানে আসার পর আমি অনেক ভালোবাসা পাই। গায়ানিজ দর্শকদের সামনে আমার ক্যারিয়ার শেষ করার অপেক্ষায় আছি।’
১৬ উইকেট নিয়ে সিপিএল শেষ করেছেন তাহির। হুনাইন শাহ, আলজারি জোসেফ ও ম্যাথু ফোর্ডের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষ বোলার তিনি। প্রথম বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে একশ সিপিএল ম্যাচ খেলেছেন। একই আসরে সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে ফাইফার নেওয়ার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তার ৪৫০ টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং করেন—১৭ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। সুনীল নারিনকে টপকে লিগে সর্বকালের শীর্ষ উইকেটশিকারিও হয়েছেন তাহির (১৪৬ উইকেট)।
সব মিলিয়ে আরেকটি আসরে খেলার জন্য নিজেকে উজ্জীবিত রাখছেন তিনি, ‘দেখুন, আমি খুব উজ্জীবিত। আমি সত্যিই এই মৌসুম উঁচুতে থেকে শেষ করতে চেয়েছিলাম। সম্ভবত আমি আমার ক্যারিয়ার শেষ করতে চাইছি, অবশ্যই গায়ানিজ দর্শকদের সামনে থেকে।’
২০১৮ সাল থেকে গায়ানার হয়েই খেলছেন তাহির। ১০২ ম্যাচে নিয়েছেন ১৪৬ উইকেট। দলকে প্রথম গ্লোবাল সুপার লিগ শিরোপা জেতানো এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমি আবারও এখানে নিজেকে দেখতে চাইছি, যেন বিদায় বলতে পারি। ফিট থাকার চেষ্টা করছি, ভালো খাওয়াদাওয়া করে। এটা সহজ নয়, কারণ কেউ যদি আইসক্রিম খায় আর আমি যদি তাদের সামনে থাকি, তাহলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। কিন্তু আপনি যদি আরও কয়েক বছর খেলতে চান, তাহলে সেটা করতেই হবে।’
তবে আবারও ফিরতে পারবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত ম্যানেজমেন্টের ওপরও থাকছে বলে জানালেন তিনি, ‘আমাকে নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। আমি এমন একজন, যে চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। আমার দায়িত্ব শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবেও। আমি মনে করি, আমি আমার সেরা চেষ্টা করেছিলাম, তাই অবশ্যই এটা ম্যানেজমেন্ট, দলের মালিক ও প্রেসিডেন্টের ওপর ছেড়ে দিলাম। আমার ভবিষ্যৎ কী, তা তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
kalprakash.com/IM