জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ চলাকালে ইরান ও কিউবার প্রতিনিধিদল ওয়াকআউট করেছে। দুই দেশের সরকারব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর মন্তব্যের পর তারা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
ইরানের শাসকদের নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানি প্রতিনিধিরা একে একে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করতে শুরু করেন। ট্রাম্প বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে তিনি ধ্বংস করে দেবেন নাকি নরকে ঠেলে দেবেন—এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তবে ট্রাম্পের এমন কঠোর বক্তব্যের মধ্যেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন বলে পরে জানা যায়।
কিউবা নিয়েও কঠোর বক্তব্য
প্রায় ৩৮ মিনিটের ভাষণে কিউবা প্রসঙ্গেও ট্রাম্প কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি কমিউনিস্ট শাসিত দেশটিকে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, কিউবার বর্তমান সরকারের পতন হবে।
ট্রাম্প বলেন, কিউবায় স্বাধীনতা আসছে। একই সঙ্গে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
তিনি জানান, তার প্রশাসন কিউবার পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, দেশটির কমিউনিস্ট সরকার এর আগে কখনো এত চাপের মুখে পড়েনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, কিউবা বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির বর্তমান সরকারের পতন ঘটবে। তিনি বলেন, কমিউনিজম কখনোই আমেরিকায় আসবে না, তবে স্বাধীনতা কিউবায় আসবে।
পরিবর্তনের ধরন নিয়ে এখনো স্পষ্ট নয় প্রশাসন
তবে কিউবায় পরিবর্তন বলতে ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ বোঝাচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পরও দেশটির রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সরকারব্যবস্থা কোনো না কোনোভাবে বহাল রয়েছে। কিউবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, কিংবা দেশটির বর্তমান সরকারব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কী হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
kalprakash.com/IM