সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। সংস্থাটি এসব হামলাকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করে সৌদি আরবের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান জানায় ওআইসি। বিবৃতিতে বলা হয়, হুতিদের চালানো এসব জঘন্য হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল নিরীহ বেসামরিক মানুষকে আতঙ্কিত করা, পবিত্র স্থান ও মসজিদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা।
ওআইসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পবিত্র স্থান, মসজিদ ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো সুস্পষ্ট সন্ত্রাসবাদ। এটি ইসলামের মূল মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক রীতি ও সর্বজনীন আইনের চরম পরিপন্থি। পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘন করা কোনোভাবেই বরদাশত বা গ্রহণ করা যায় না। এ ধরনের জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো অত্যন্ত জরুরি।
বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে ওআইসি। একই সঙ্গে পবিত্র স্থান ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সৌদি সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোর প্রতিও অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছে সংস্থাটি।
এর আগে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কাছে হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের পক্ষ থেকে এটি দ্বিতীয়বারের মতো হামলার চেষ্টা ছিল বলেও দাবি করেছে জোট।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে আকাশে ধ্বংস করে। পরবর্তীতে এর ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে গিয়ে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল হুতিরা।
মুখপাত্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও সেখানে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা তাঁদের জন্য রেড লাইন। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রুখে দিতে জোট প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগের দিন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় খামিস মুশাইত, আবহা ও তায়েফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দীর্ঘদিন তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরু থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশগুলো দখল করার পর থেকেই দেশটিতে যুদ্ধ চলছে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন জানাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
kalprakash.com/IM