হবিগঞ্জে এক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উভয় আসামিকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রোববার বিকেলে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা মিরাশ উদ্দিনের ছেলে খলিল উদ্দিন এবং একই এলাকার মৃত ইশ্বাদ উল্লাহর ছেলে মো. গোলাম হোসেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও খলিল উদ্দিন ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। চিকিৎসার খরচের জন্য টাকার প্রয়োজন হওয়ায় ওই তরুণী নিজের একটি পুরোনো রূপার চেইন বিক্রি করতে চাইলে খলিল তা কিনে নেওয়ার কথা বলেন। এর সূত্র ধরে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে দেখা করার কথা বলে তরুণীকে একটি নির্জন ফসলি জমিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন খলিল।
পরবর্তীতে স্থানীয় ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং তিনিও তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী তরুণী এতে বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে খলিল ও গোলাম হোসেন মিলে তাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পরদিন দুপুরে পরিবারের সদস্যরা নির্জন স্থান থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় নিহত তরুণীর বাবা সুফি মিয়া বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। বিচার চলাকালে আসামিরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ সেলিম রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। প্রচলিত আইনানুযায়ী আগামী সাত দিনের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
kalprakash.com/IM