শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ২:৪৭:১২
শিরোনাম
সুখবর দিলো আবহাওয়া অফিস ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ৬.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আসুন এবার রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির বাইরে কোনো ‘অফ ডে’ থাকবে না: ত্রাণমন্ত্রী এজিইএস নির্বাচনে সভাপতি দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক লিটন বিজয়ী জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের উপদেষ্টা হতে রুহুল কবির রিজভীকে অনুরোধ ভেনিসে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশি নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি সানন্দবাড়ীতে অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ ছয় মাসের মাথায় সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ সুখবর দিলো আবহাওয়া অফিস ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ৬.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আসুন এবার রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির বাইরে কোনো ‘অফ ডে’ থাকবে না: ত্রাণমন্ত্রী এজিইএস নির্বাচনে সভাপতি দেলোয়ার, সাধারণ সম্পাদক লিটন বিজয়ী জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের উপদেষ্টা হতে রুহুল কবির রিজভীকে অনুরোধ ভেনিসে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতলেন বাংলাদেশি নির্মাতা রাকায়েত রাব্বি সানন্দবাড়ীতে অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ ছয় মাসের মাথায় সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

ছয় মাসের মাথায় সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৫
শেয়ার: mail
ছয় মাসের মাথায় সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

একটি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের জন্য মূলত তিনটি বিষয় অপরিহার্য—প্রথমত, গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ; দ্বিতীয়ত, দক্ষ ও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং তৃতীয়ত, জাতীয় স্বার্থভিত্তিক দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতি। এই তিন স্তম্ভের সঠিক ও কার্যকর সমন্বয়ের ওপরই নির্ভর করে একটি দেশের সার্বিক অগ্রগতি।

তবে বর্তমান সরকার এই তিনটি ক্ষেত্রেই উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে অত্যন্ত নাজুক ও জটিল এক পরিস্থিতি। ভঙ্গুর অর্থনীতি, গভীরভাবে বিভক্ত রাজনীতি এবং অস্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতির এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সাধারণত শূন্য থেকে কোনো কাজ শুরু করলেও সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়; কিন্তু যখন যাত্রা শুরু করতে হয় ‘নেগেটিভ’ বা ঋণাত্মক অবস্থান থেকে, তখন প্রথমে সংকট সামলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে হয়, তারপর প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে হয়। বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রেও ঘটেছে তাই। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক স্থবিরতা, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে দেশকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই পরিস্থিতি রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, আবার দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে জনমনে হতাশা ও নেতিবাচক মনোভাবের জন্ম দিতে পারে। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসের কার্যক্রমে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি। তবে মূল সংকট তৈরি হয়েছে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পর্যায়ে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে যে রূপরেখা ও অনুশাসন দেওয়া হচ্ছে, মাঠপর্যায়ে বা প্রশাসনিক স্তরে তা যথাযথ গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। নীতি ও বাস্তবায়নের এই ব্যবধানই এখন সরকারের প্রধানতম চ্যালেঞ্জ। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাগুলো প্রশাসনিক বা স্থানীয় পর্যায়ে অদৃশ্য কোনো বাধায় শ্লথ হয়ে পড়ছে কি না, তা দ্রুত খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি; অন্যথায় সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার চারটি মূল অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে: ১. বন্ধ কলকারখানা দ্রুত পুনরায় চালু করা, ২. শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ৩. বেসরকারি খাতকে প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা প্রদান, এবং ৪. ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার।

সরকার রোগ সঠিকভাবে শনাক্ত করে প্রেসক্রিপশন তৈরি করলেও মাঠপর্যায়ে তা প্রয়োগে অনাগ্রহ ও নানা অজুহাত দৃশ্যমান। বন্ধ কলকারখানা চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অন্তত আটটি অনুশাসন এবং গত ১ মে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি আসেনি। নির্দেশনার পর কেন কারখানাগুলো সচল হলো না এবং কারা বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করছে—তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক চাকা ঘোরাতে হলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পর্যায়ে যেকোনো ধরনের শৈথিল্য দূর করে যোগ্য ও উদ্যমী নেতৃত্ব বসাতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেমন বলেছিলেন, ‘আমাদের কথা কম বলে কাজ বেশি করতে হবে’—বর্তমান বাস্তবতায় নীতিগত বক্তব্যের চেয়ে মাঠে কার্যকর বাস্তবায়নের মানুষই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিনের বিভাজন কাটিয়ে সুস্থ ধারা প্রতিষ্ঠা একটি বড় পরীক্ষা। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের চাপিয়ে দেওয়া নানা রাজনৈতিক গোলকধাঁধায় দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব ও পারস্পরিক আক্রমণাত্মক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজনৈতিক সৌজন্য ও সংযত ভাষার চর্চা করছেন। সম্প্রতি বিরোধী দলের ‘লংমার্চ’ কর্মসূচিতে কোনো প্রশাসনিক বাধার সৃষ্টি না করে ক্ষমতাসীন দল যে সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে, তা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে কেন্দ্র ও শীর্ষ নেতৃত্ব যে সহনশীলতার বার্তা দিচ্ছে, তৃণমূল ও দলীয় কর্মীদের মধ্যেও সেই সংস্কৃতির পূর্ণ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো মূল্যে অতিউৎসাহীদের নিবৃত্ত করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন, কারণ দেশ এখন কোনো ধরনের সংঘাতের ভার বহন করার মতো অবস্থায় নেই।

একইভাবে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও স্পষ্ট ও সক্রিয় অবস্থান জরুরি হয়ে উঠেছে। ভারত, চীন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর রূপরেখা নিয়ে এগোতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন নানামুখী সমস্যার দ্রুত ও বাস্তবসম্মত সমাধান প্রত্যাশা করে। নীতিগত বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতির চেয়ে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কাজের মাধ্যমেই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ছয় মাসের মাথায় সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

বিস্তারিত কমেন্টে