বাগেরহাটে দূরপাল্লার বাস চলাচল ও যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বাস টার্মিনালের সক্ষমতা। দুই দশকের বেশি সময় আগে নির্মিত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীর চাপ সামলাতে গিয়ে কার্যত বেহাল হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ ভাঙাচোরা সড়ক, বড় বড় গর্ত, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ও তীব্র পার্কিং সংকটের কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজার হাজার যাত্রী।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, টার্মিনালের ভেতরে প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে দূরপাল্লার অধিকাংশ বাসকে প্রধান সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। ব্যস্ত মহাসড়কের ওপর এভাবে যাত্রী ওঠানামা করায় প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাগেরহাটের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। ফলে এ রুটে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার যাত্রী এই টার্মিনাল ব্যবহার করেন এবং আটটি ভিন্ন রুটে তিন শতাধিক বাস ও মিনিবাস নিয়মিত চলাচল করে। অথচ এই বিপুল চাপ সামলানোর মতো আধুনিক কোনো অবকাঠামো নেই টার্মিনালে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে কঙ্কালসার রূপ নিয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকা কাদার কারণে বাসের পাশাপাশি সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্ধারিত জায়গায় স্থান না পেয়ে বহু বাস বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে অবস্থান করছে। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি পরিবহন সংস্থার টিকিট কাউন্টার টার্মিনালের বাইরে থাকায় যাত্রীদের অনিরাপদভাবে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।
চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী রায়হান শেখ বলেন, বাস থেকে নামার পর অনেক সময় ফুটপাত না থাকায় ব্যস্ত সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পাশ দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করায় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
শাওন নামের আরেক যাত্রী জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই টার্মিনাল এলাকায় কাদা-পানির একাকার অবস্থা হয়। নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চলাফেরা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ঢাকা থেকে আসা শাফিন আহমেদ ও যশোরের যাত্রী নাফিজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও টার্মিনালের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি। যাত্রীদের বিশ্রামের জায়গা নেই, বৃষ্টির সময় কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে বাগেরহাট পৌরসভা এলাকায় মহাসড়কের পাশে প্রায় দুই একর জমির ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণের পর দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এর কোনো উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ বা আধুনিকায়ন হয়নি।
বাগেরহাট জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, টার্মিনালের সার্বিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। সড়কের বড় বড় গর্তে পড়ে প্রতিনিয়ত বাসের যন্ত্রাংশ ও পাতি ভেঙে যাচ্ছে। এতে মালিকদের অযাচিত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। নিয়মিত পৌর কর পরিশোধ করা সত্ত্বেও টার্মিনালের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হওয়া দুঃখজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন জানান, পুরোনো এই বাস টার্মিনালটিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে তৈরি হওয়া খানাখন্দ সাময়িকভাবে ইট-বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে এবং আলোকস্বল্পতা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনাল সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যে অতিরিক্ত প্রায় তিন একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। জমি প্রাপ্তি সাপেক্ষে আধুনিক টার্মিনাল ভবন, পর্যাপ্ত পার্কিং ইয়ার্ড ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
kalprakash.com/IM