শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:৩৮:১৯
শিরোনাম
মূলধনী করের জাঁতাকলে মধ্যবিত্ত, নতুন কর আইনে বাড়ছে নাভিশ্বাস কিশোর গ্যাং ও মাদকের ছোবলে বিপন্ন তারুণ্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে যুবদল নেতাকে অব্যাহতি দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যা, ৫-০ গোলে উড়িয়ে বায়ার্নের দুর্দান্ত শুরু সাত অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নামী ব্র্যান্ডের পুষ্টিপণ্যে পোকা, অভিযোগ বিপাশা বসুর জাতীয় কমিটি গঠন, সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০ জন মৃত্যু ২ একদিনে নতুন আক্রান্ত ও উপসর্গ ১,১১১ জন মূলধনী করের জাঁতাকলে মধ্যবিত্ত, নতুন কর আইনে বাড়ছে নাভিশ্বাস কিশোর গ্যাং ও মাদকের ছোবলে বিপন্ন তারুণ্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গে যুবদল নেতাকে অব্যাহতি দ্বিতীয়ার্ধে গোলের বন্যা, ৫-০ গোলে উড়িয়ে বায়ার্নের দুর্দান্ত শুরু সাত অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নামী ব্র্যান্ডের পুষ্টিপণ্যে পোকা, অভিযোগ বিপাশা বসুর জাতীয় কমিটি গঠন, সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ৭৯০ জন মৃত্যু ২ একদিনে নতুন আক্রান্ত ও উপসর্গ ১,১১১ জন

কিশোর গ্যাং ও মাদকের ছোবলে বিপন্ন তারুণ্য

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫২
শেয়ার: mail
কিশোর গ্যাং ও মাদকের ছোবলে বিপন্ন তারুণ্য

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

একসময় যে বয়সে বই-খাতা, খেলাধুলা আর স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই অনেক কিশোরের হাতে উঠছে মাদক, জড়িয়ে পড়ছে সংঘবদ্ধ অপরাধে। কোথাও আড্ডার আড়ালে মাদকের বিস্তার, কোথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা গ্রুপের মাধ্যমে অপরাধে সম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে কিশোর গ্যাং এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি ক্রমেই একটি সামাজিক সংকটে পরিণত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ও কিশোর অপরাধের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। মাদকের সহজলভ্যতা কিশোরদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আবার অপরাধী চক্রও নতুন সদস্য সংগ্রহে কিশোরদের ব্যবহার করে। ফলে একজন কিশোর প্রথমে মাদক গ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকিতে পড়লেও পরবর্তী সময়ে চুরি, ছিনতাই, মারামারি, চাঁদাবাজি কিংবা অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক জাতীয় তথ্যও পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) দেশব্যাপী এক জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ এক বা একাধিক অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে। জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণের কথা জানিয়েছেন এবং ৫৯ শতাংশের প্রথম ব্যবহার ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে। অর্থাৎ কৈশোর ও তারুণ্যেই মাদকের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

শুধু মাদক গ্রহণ নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সামাজিক ও পারিবারিক নানা সমস্যা। পরিবারে নজরদারির ঘাটতি, অভিভাবকদের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব, বেকারত্ব, হতাশা, বন্ধুমহলের প্রভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এবং অবসর সময়ের সঠিক ব্যবহার না হওয়া—এসব কারণ কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

গবেষণাতেও কিশোরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি গবেষণায় মাদক ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, কম আত্মমর্যাদাবোধ, আক্রমণাত্মক আচরণ, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধপ্রবণতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, সরকারি মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তথ্যেও তরুণদের মধ্যে মাদক সমস্যার ব্যাপকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৬৯ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

এ অবস্থায় কিশোর গ্যাং দমনে শুধু অভিযান চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধ সংঘটনের পর গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা অবশ্যই প্রয়োজন; তবে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আগেই কিশোরদের শনাক্ত করে তাদের সামাজিক ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম দায়িত্ব পরিবার ও অভিভাবকদের। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, কী ধরনের অনলাইন গ্রুপে যুক্ত হচ্ছে, আচরণে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। তবে নজরদারি যেন কেবল শাসন বা ভয় দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করাও জরুরি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। নিয়মিত কাউন্সেলিং, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিতর্ক ও সৃজনশীল কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী মাদক বা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তাকে একঘরে না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবার, শিক্ষক, কাউন্সেলর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

একই সঙ্গে মাদকের সরবরাহ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু খুচরা পর্যায়ের ব্যবহারকারী নয়, মাদকের সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও পেছনের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো জরুরি। সরকারও বিদ্যমান চিকিৎসা অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়েও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। পাড়া-মহল্লায় কিশোরদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করাও হতে পারে কার্যকর উদ্যোগ।

সবচেয়ে বড় কথা, কিশোরকে শুধু অপরাধী হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল কারণ আড়ালেই থেকে যাবে। একটি কিশোর কেন গ্যাংয়ে যাচ্ছে, কেন মাদকের দিকে ঝুঁকছে, তার পরিবারে কী সমস্যা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সে কী ধরনের পরিবেশ পাচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

কারণ আজকের কিশোরই আগামী দিনের নাগরিক। তাদের একটি অংশ যদি মাদক ও অপরাধের অন্ধকারে হারিয়ে যায়, তার প্রভাব শুধু একটি পরিবারে নয়, পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর পড়বে। তাই কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে না দেখে পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কঠোর আইন প্রয়োগ—সবকিছুকে একসঙ্গে নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

কিশোর গ্যাং ও মাদকের ছোবলে বিপন্ন তারুণ্য

বিস্তারিত কমেন্টে