পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয় ও বাস্তবায়ন তদারকির জন্য নতুন একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি’ নামে গঠিত এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটিতে অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ভূমি, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। পাশাপাশি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী-১ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও কমিটির সদস্য থাকবেন।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টাকে প্রধান সমন্বয়ক এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকে সদস্য করা হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক। ডিজিএফআই মহাপরিচালককে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যেসব দায়িত্ব পালন করবে কমিটি
সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তঃসংস্থা বাস্তবায়ন কার্যক্রম তদারকি করবে এই কমিটি।
একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার কার্যপরিধি এবং দায়িত্বের ক্ষেত্র নির্ধারণের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে কমিটিকে।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্ত করা এবং তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কমিটিতে সদস্য কিংবা সহায়তাকারী কর্মকর্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে কমিটি। প্রয়োজন হলে অন্য ব্যক্তিকেও কো-অপ্ট করার ক্ষমতা থাকবে তাদের।
ডিজিএফআইয়ে থাকবে সচিবালয়
কমিটির সচিবালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজিএফআইকে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত এবং সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেও নির্দিষ্ট মেয়াদে সচিবালয়ের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।