পাবনার আটঘরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত কিশোরী তমা খাতুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং একদন্ত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আদম আলীকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার কিছুদিন পরই তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের নগরচাঁচকিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নগরচাঁচকিয়া এলাকায় অবস্থানকালে কয়েকজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত আদম আলীকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নিহত আদম আলী একদন্ত ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি কিশোরী তমা খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তমা খাতুনকে বাড়ি থেকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যান আদম আলী। পরদিন ২৪ ডিসেম্বর উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের একটি নির্জন বাঁশঝাড় থেকে তমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পরবর্তীতে আদম আলীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তমাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন আদম আলী। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যাতে আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। প্রায় এক বছর কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছিলেন।
তমা হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পরই তাঁকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বশত্রুতা, প্রতিশোধ নাকি অন্য কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
kalprakash.com/IM