রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বেসরকারি তেজগাঁও কলেজকে সরকারীকরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তেজগাঁও কলেজ শাখা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলেজটিকে সরকারীকরণের দাবি জানান তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা।
তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফ আল নোমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে কলেজ প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, তেজগাঁও কলেজের প্রশাসন থেকে শুরু করে প্রায় সকল পর্যায়ে অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটে পরিপূর্ণ তারা বিভিন্ন ভাবে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে। ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে সিন্ডিকেটের বিষবাষ্প ধ্বংস করে তেজগাঁও কলেজকে “সরকারি কলেজ” রুপান্তরের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র প্রতি দাবি জানাই।
এছাড়াও আহ্বায়ক সদস্য হাসনাইন আহমেদ পোস্টে লিখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ভাইয়া আপনার কাছে আমাদের আকুল আবেদন। তেজগাঁও কলেজ এর সকল শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি তেজগাঁও কলেজ কে সরকারি করন করা হোক…।
আহ্বায়ক সদস্য নাজমুল হাসান পোস্টে লিখেন, তেজগাঁও কলেজ কারও ব্যক্তিগত সিন্ডিকেট বা অনিয়মের আখড়া হতে পারে না। প্রশাসনের চরম স্বেচ্ছাচারিতা আর একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সিন্ডিকেটের কারণে বারবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। চক্রান্তের বিষবাষ্প ছড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রিয় সংগঠন ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল’কে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা আমরা রুখে দেবই। শিক্ষা কোনো ব্যবসা নয়, শিক্ষা আমাদের অধিকার। তেজগাঁও কলেজের ইতিহাস ও শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে আনতে একে ‘সরকারি কলেজ’ হিসেবে রূপান্তরের বিকল্প নেই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের জোর দাবি—অবিলম্বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই প্রাণের দাবি বাস্তবায়ন করা হোক। আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের পক্ষে থাকবো।
তন্মধ্যে শিক্ষার্থী রাফসান কল্লোল পোস্টে লিখেছেন, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের এই উদ্যোগকে আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সমর্থন করছি । এটি তেজগাঁও কলেজ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ দিনের দাবি যা ৫ আগস্ট পরবর্তী ক্যাম্পাস সংস্কার করার লক্ষ্যে কাজ করা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ৯ দফার গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি ছিলো । তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল কে এই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছি।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও কলেজ সরকারীকরণের দাবিতে অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দেয় তেজগাঁও কলেজ অধিকার পরিষদের তৎকালীন সভাপতি তারেক আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাবের মাহমুদ এবং বর্তমান সভাপতি আসিফ হোসাইন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ১৯৬১ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত তেজগাঁও কলেজ রাজধানীর একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছরে কলেজটিতে প্রায় ২৮ হাজার (বর্তমানে ৩০ হাজার) শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে তেজগাঁও কলেজে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় প্রতিষ্ঠানটি সাফল্য অর্জন করেছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, দেশের বিভিন্ন কলেজ জাতীয়করণ করা হলেও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তেজগাঁও কলেজ এখনো সরকারি হয়নি। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে এলেও তাদের আবাসনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের এসব সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি দাবি আদায়ে আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, কলেজটি সরকারীকরণের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও কিছু সুবিধাভোগী শিক্ষকের অসহযোগিতা অন্যতম বড় বাধা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, তেজগাঁও কলেজ সরকারীকরণ হোক—এটি প্রতিটি শিক্ষার্থীরই দাবি। কিন্তু এ বিষয়ে কাজ করতে গেলে কলেজ প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না; বরং বিভিন্নভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়। তার অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশ কলেজটি সরকারি হোক, তা চায় না।
ওই শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অন্যান্য কলেজের তুলনায় তেজগাঁও কলেজে ভর্তি ফি ও মাসিক বেতনসহ বিভিন্ন খরচ বেশি। তার দাবি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফরম পূরণের ফির তুলনায় তেজগাঁও কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে নিয়মিত অসহনীয় বেতন ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, শিক্ষার জন্য নয়, শুধু বেতন পরিশোধের জন্যই কলেজে এসেছি।
ওই শিক্ষার্থীর প্রশ্ন, যেহেতু শিক্ষার্থীদের মধ্যে কলেজটি সরকারীকরণের দাবি রয়েছে, তাহলে এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণ কী— তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে তেজগাঁও কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।