রাশিয়ার আমুর অঞ্চলে একটি গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মাহিন উদ্দিন নামে আরও এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মিজানুর রহমান।
নিহত মাহিন উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদীতে। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটল।
দূতাবাসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বুধবার হাসপাতালে মাহিনকে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিনও মাহিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছিলেন।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাশিয়ার আমুর অঞ্চলের সভোবোদনি শহরের কাছে নির্মাণাধীন আমুর গ্যাস কেমিক্যাল কমপ্লেক্সে (এজিসিসি) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন প্রতিষ্ঠানটি চীনের ছয় নাগরিকসহ সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে পৌঁছায়। এজিসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই বিদেশি নাগরিক।
অগ্নিকাণ্ডের দুদিন পর ২৭ আগস্ট একজন বাংলাদেশির মৃত্যু ও আরেকজন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানায় মস্কোর বাংলাদেশ দূতাবাস। পরে তাদের পাশাপাশি আব্দুল কুদ্দুস নামে আরও এক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
নিহতদের মধ্যে জাকির হোসেনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব, মো. আলাল হোসেন রাজুর বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী এবং আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হুগলবাড়ীয়ায়। সর্বশেষ মারা যাওয়া মাহিন উদ্দিনের বাড়ি নরসিংদীতে।
দূতাবাসের প্রথম সচিব মিজানুর রহমান জানান, জাকির হোসেন ও আলাল হোসেন রাজুর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে কফিনবন্দি করা হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্গো বিমানে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে পরিবারের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, মস্কোর হাসপাতালে থাকা আব্দুল কুদ্দুস ও মাহিন উদ্দিনের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন মারা গেছেন এবং গুরুতর অবস্থায় একজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ আবাসে ফিরেছেন।
এজিসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমপ্লেক্সের পাইরোলাইসিস ইউনিটের একটি সহায়ক অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুনে কমপ্লেক্সের মূল যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্পটি রাশিয়ার শীর্ষ পেট্রোকেমিক্যাল প্রতিষ্ঠান সিবুর এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস কোম্পানি সিনোপেকের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর লক্ষ্যে সেখানে শেষ ধাপের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছিল।
kalprakash.com/IM