সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৫:১৩:০৪

নেপালের অন্ধকার সুড়ঙ্গে জীবিতদের খোঁজে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪
শেয়ার: mail
নেপালের অন্ধকার সুড়ঙ্গে জীবিতদের খোঁজে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

বাইরে ধ্বংসস্তূপের পাহাড় আর ভেতরে অন্ধকার সুড়ঙ্গ—তার মাঝেই বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজে পেতে চলছে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও মরিয়া তৎপরতা। নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ অংশে আটকা পড়া ৯০০ জনেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

সোমবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে নিখোঁজ ৯৩৩ জনকে খুঁজে বের করাই এখন তাদের উদ্ধার অভিযানের মূল অগ্রাধিকার।

গত বুধবার হিমালয়ের চূড়া থেকে বরফ, পাথর ও কাদামাটির নজিরবিহীন স্রোত নেমে এসে মুহূর্তেই তছনছ করে দেয় নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ জনপদ। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০৩ জনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন (যার মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক)। অন্যদিকে সীমান্তের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা নিশ্চিত করেছে চীন।

উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, নিখোঁজদের একটি বড় অংশের সন্ধান মিলতে পারে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে। তবে ভারী কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে সুড়ঙ্গের মুখগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে প্রবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় উদ্ধার তৎপরতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পর্বতারোহী আশিস গুরুং বলেন, ‘সুড়ঙ্গের ভেতরে বুক সমান গভীর কাদা ও পানি। কাঠের তক্তা ও দড়ির অস্থায়ী ব্যবস্থা তৈরি করে আমরা প্রায় ১৩০ মিটার গভীরে প্রবেশ করেছিলাম। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ হলেও সুড়ঙ্গের নিরাপদ অবকাঠামোর ভেতরে অনেকের এখনো জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।’

রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বেসামরিক কর্মীদের পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় চীনও ২ হাজার ১০০ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন এবং ২২০ মিলিয়ন ইউয়ান জরুরি সহায়তা বরাদ্দ করেছে।

এদিকে সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ধসে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদ উপচে নতুন বন্যার আশঙ্কা থাকলেও সোমবার আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসায় উদ্ধারকাজ আবারও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাসুয়া জেলা প্রশাসন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নেপালের অন্ধকার সুড়ঙ্গে জীবিতদের খোঁজে রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান

বিস্তারিত কমেন্টে