সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার আগেই নতুন করে গভীর নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান প্রেসক্লাব যশোর। সংকটকালীন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক একরাম-উদ-দ্দৌলা, সদস্যসচিব মবিনুল ইসলাম মবিন ও সদস্য ওহাবুজ্জামান ঝন্টু একযোগে পদত্যাগ করেছেন। একই দিনে কমিটির শীর্ষ দুই নেতাসহ তিন সদস্যের পদত্যাগের ঘটনায় ক্লাবের সাধারণ সদস্যদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা, হতাশা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সংকটকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মবিনুল ইসলাম মবিন আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক একরাম-উদ-দ্দৌলা। একই সঙ্গে কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন ওহাবুজ্জামান ঝন্টু।
পদত্যাগপত্রে একরাম-উদ-দ্দৌলা উল্লেখ করেন, প্রেসক্লাব যশোরের পরিচালনা ও নির্বাচনসহ বিভিন্ন গঠনতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গত ৬ আগস্ট বিশেষ সাধারণ সভায় ১৪ সদস্যের সংকটকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। বয়সজনিত শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও ক্লাবের ঐক্য, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতিতে সব কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন অবস্থায় তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় এবং পরিচিতজনদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
অন্যদিকে সদস্যসচিব মবিনুল ইসলাম মবিন তাঁর পদত্যাগপত্রে জানান, ক্লাবের বৃহত্তর স্বার্থে দায়িত্ব নেওয়ার পর গঠনতন্ত্র সংশোধন, সদস্যপদ প্রদান ও অডিট কার্যক্রম শুরুর মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে ক্লাবের কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময় দিতে গিয়ে তিনি নিজের পত্রিকার দায়িত্বে সময় দিতে পারছিলেন না। এতে পেশাগত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাব যশোরের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি নতুন সদস্যপদ দেওয়ার জন্য ৯৫ জন সাংবাদিকের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রথমে ২৮ জনকে সদস্যপদ দেওয়া হয় এবং একজনের সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হয়। পরবর্তীতে ২৯ আগস্ট পুনঃমূল্যায়নে দুজনের সদস্যপদ বাতিল করে নতুন ১০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সদস্যপদ প্রদান নিয়ে নানামুখী বিতর্ক ও শীর্ষ নেতৃত্বের একযোগে পদত্যাগের ঘটনায় নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।
kalprakash.com/IM