সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৫:১৩:০০

পঞ্চগড়ে হোটেল শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে জখম, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি

মাহামুদুল ইসলাম জয়, পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৫
শেয়ার: mail
পঞ্চগড়ে হোটেল শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে জখম, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে জেলা হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো ছুরির আঘাতে আব্দুল মালেক (৪০) নামের এক শ্রমিক নেতা ও কার্যকরী সদস্য পদের প্রার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গত রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে জেলা শহরের সরকারি অডিটোরিয়ামের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল মালেক পঞ্চগড় পৌরসভার রামেরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা।

শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা হোটেল ও রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ১৩টি পদের বিপরীতে ১৩ জনই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গত ২৯ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার দিন ধার্য করে। তবে এর মধ্যেই আব্দুল খালেক ও রফিকুলের নেতৃত্বে অপর একটি পক্ষ দিনাজপুর আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ৩০ আগস্ট বিকেলে দুই পক্ষকেই ইউনিয়ন কার্যালয়ে ডাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। এ সময় রফিকুল ও খালেকের নেতৃত্বে ৪০-৫০ জনের একটি দল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় তফসিল ঘোষণা ও সরাসরি ভোটের দাবি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কমিটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

পরবর্তীতে বৈঠক শেষে আব্দুল মালেক বাড়ি ফেরার পথে সরকারি অডিটোরিয়ামের সামনে পৌঁছালে রফিকুলের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল তাঁর গতিরোধ করে। তারা ধারালো ছুরি দিয়ে মালেকের বুকের বাম পাশে গভীর আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত আব্দুল মালেক অভিযোগ করেন, ‘তারা দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে হত্যার চেষ্টা করছিল। প্রাণ বাঁচাতে আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। কিন্তু বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে রফিকুল, মিজান ও মনিরসহ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার বুকে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়।’

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁরা নির্বাচনে মনোনয়নপত্রই সংগ্রহ করেননি। নিয়মানুযায়ী আমাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার কথা ছিল। পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মালেকের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। আমরা জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজওয়ানুল্লাহ জানান, আহতের বুকের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত অত্যন্ত গভীর হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

পঞ্চগড়ে হোটেল শ্রমিক নেতাকে কুপিয়ে জখম, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি

বিস্তারিত কমেন্টে