রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ৯:১৭:২৩

২৫ বছরে ৪৪ সন্তানের জন্ম: উগান্ডার মারিয়াম নাবাতানজির বিস্ময়কর জীবন ও সংগ্রাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৬
শেয়ার: mail
২৫ বছরে ৪৪ সন্তানের জন্ম: উগান্ডার মারিয়াম নাবাতানজির বিস্ময়কর জীবন ও সংগ্রাম

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

উগান্ডার বাসিন্দা মারিয়াম নাবাতানজিকে বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে উর্বর নারী হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। প্রায় ২৫ বছরে তিনি ৩৮ বার গর্ভধারণ করে মোট ৪৪ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছয় জোড়া যমজ, চারবার একসঙ্গে তিনজন (ট্রিপলেট), তিনবার একসঙ্গে চারজন (কোয়াড্রুপ্লেট) এবং দুটি একক সন্তান। জন্মের পর তার ছয় সন্তান মারা যাওয়ায় বর্তমানে ৩৮ সন্তান জীবিত রয়েছে।

১৯৮০ সালে উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করা মারিয়ামের মাত্র ১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়। এর পরের বছর অর্থাৎ ১৩ বছর বয়সে তিনি প্রথমবার মা হন এবং জন্ম দেন যমজ সন্তান। মারিয়াম জানান, তার পারিবারিক পরিকল্পনা ছিল সর্বোচ্চ ছয়টি সন্তান নেওয়ার। কিন্তু একের পর এক যমজ, ট্রিপলেট ও কোয়াড্রুপ্লেট সন্তান জন্ম নেওয়ায় দ্রুত পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেড়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, মারিয়ামের শরীরে ‘হাইপারওভুলেশন’ নামের একটি বিরল শারীরিক অবস্থা ছিল। এর ফলে প্রতিটি ঋতুচক্রে তার ডিম্বাশয় থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে একাধিক ডিম্বাণু নির্গত হতো। এসব ডিম্বাণু একসঙ্গে নিষিক্ত হওয়ায় প্রতিবারই যমজ বা একাধিক সন্তানের জন্ম হয়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. চার্লস কিগুন্ডু জানান, মারিয়ামের ডিম্বাশয় অস্বাভাবিক রকমের বড় ছিল এবং তিনি ক্রমাগত একাধিক ডিম্বাণু উৎপাদন করতেন। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বারবার ট্রিপলেট বা কোয়াড্রুপ্লেট সন্তানের জন্ম হওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানে অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা।

কয়েকবার সন্তান জন্মের পর মারিয়াম আর সন্তান নিতে না চেয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তবে অস্বাভাবিক ডিম্বাশয়ের কারণে সম্ভাব্য শারীরিক জটিলতার আশঙ্কায় চিকিৎসকেরা প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রয়োগে সতর্ক ছিলেন। পরবর্তীতে শেষ সন্তানের জন্মের পর অস্ত্রোপচারের (টিউবাল লাইগেশন) মাধ্যমে তার স্থায়ী গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা হয়।

২০১৫ সালে স্বামী পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর মারিয়ামকে সম্পূর্ণ একাই বিশাল এই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য তিনি কৃষিকাজ, দর্জির কাজ, চুল কাটা, ভেষজ ওষুধ বিক্রি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান সাজানোর মতো কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এই বিশাল পরিবারের জন্য প্রতিদিন অন্তত ২৫ কেজি ভুট্টার আটার প্রয়োজন হতো। মায়ের এমন জীবনসংগ্রামে পাশে দাঁড়িয়েছে বড় সন্তানরাও; তারা রান্না, ঘর পরিষ্কার ও ছোটদের দেখাশোনার দায়িত্ব ভাগ করে নিত।

মারিয়ামের জীবনগাথা কেবল ৪৪ সন্তানের জন্ম দেওয়ার বিস্ময়কর পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাল্যবিয়ে, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য সংকট, আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতা এবং একজন একক মায়ের টিকে থাকার এক অদম্য লড়াই। নিজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না পেলেও সন্তানদের উপযুক্ত শিক্ষাদানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এই সংগ্রামী মা।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

২৫ বছরে ৪৪ সন্তানের জন্ম: উগান্ডার মারিয়াম নাবাতানজির বিস্ময়কর জীবন ও সংগ্রাম

বিস্তারিত কমেন্টে