মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতের পর যুক্তরাষ্ট্রে নীতি সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এক দিনেই মূল্যবান এই ধাতুটির দর ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিনশেষে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৬৭ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দামও সমান ২ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫২৯ দশমিক ০৯ ডলারে স্থির হয়।
শুক্রবারের এই দরপতনের কারণে চলতি সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সামগ্রিক দর কমেছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ এর আগে গত মঙ্গলবারই (২৫ আগস্ট) ধাতুটির দাম তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৯৬ দশমিক ১৮ ডলারে উঠেছিল।
ধাতু বাজার বিশ্লেষক তাই ওং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামেনি এবং তা নিয়ন্ত্রণে ফেডের আরও কাজ বাকি রয়েছে। তাঁর এমন বক্তব্যের পরপরই স্বর্ণের বাজারে বড় ধাক্কা লাগে। এর ফলে আগামী সেপ্টেম্বরের মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ারশের বক্তব্যের আগে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা যেখানে ছিল ৩৬ শতাংশ, তা বেড়ে এখন ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণত ব্যাংকে সুদের হার বেশি থাকলে সুদমুক্ত সম্পদ হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৬৬ দশমিক ৮১ ডলারে এবং প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৩৫ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। তবে এর বিপরীতে প্যালাডিয়ামের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪২২ দশমিক ২৫ ডলারে উঠেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারিত রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৭ টাকা।
kalprakash.com/IM