পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ভগবান শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের নির্দেশে পরম দয়াল শ্রী শ্রী গোপালচাঁদ সাধু ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বারুণীস্নান ও ধর্মীয় মতুয়া মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার শ্রীধাম লক্ষিখালীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তিময় পরিবেশে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। গোপালচাঁদ সাধু ঠাকুরের পঞ্চম উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমানে গদীনশীন আছেন সাগর সাধু ঠাকুর।
পুণ্যতিথি ত্রয়োদশী শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাক, ঢোল, কাঁসি ও করতালের ধ্বনি এবং লাল নিশান হাতে নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশের বাইরের অসংখ্য মতুয়া ভক্তবৃন্দ এই পুণ্যভূমিতে সমবেত হন। কীর্তন শেষে ভক্তরা কামনা সাগরে পুণ্যস্নানের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি ও পাপমুক্তির প্রার্থনা করেন। মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে এই উৎসব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বহন করে।
অনুষ্ঠানে আগত ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘের প্রধান উপদেষ্টা মহা মতুয়াচার্য শ্রী অমিতাভ ঠাকুর ও শ্রী সুব্রত ঠাকুরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবকের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন শ্রী শ্রী গোপালচাঁদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শ্রীযুক্ত বাবু রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী, বিপিএম, মেলার মাঠ পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, “প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ধর্ম নিয়ে কেউ কাউকে বিদ্রুপ বা কটাক্ষ না করাই শ্রেয়।”
ধর্মীয় সম্প্রীতি, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনায় ভরপুর এ আয়োজন মতুয়া সম্প্রদায়ের ঐক্য ও বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রিন্স মণ্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি 










