জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মেক্সট স্কলারশিপ অর্জন করে দেশটির রিতসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পেয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী পবিত্র বর্মন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলা সদরে।
পবিত্র বর্মন জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (MEXT) অধীন মনবুকাগাকুশো বা মেক্সট স্কলারশিপে নির্বাচিত হয়েছেন। এ স্কলারশিপের আওতায় তিনি জাপানের রিতসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অ্যাডভান্সড ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কম্পিউটার সিস্টেমস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
প্রাপ্ত স্কলারশিপ সনদ অনুযায়ী, তিনি সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে রিতসুমেইকান বিশ্ববিদ্যালয়ে মেক্সট স্কলার হিসেবে ভর্তি হবেন। স্কলারশিপের আওতায় তাঁর টিউশন ও ভর্তি ফি মওকুফের পাশাপাশি ভ্রমণ ব্যয় এবং থাকা-খাওয়ার জন্য মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়া নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয়ের সুবিধাও পাবেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে থাকতেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন পবিত্র বর্মন। এরপর ধীরে ধীরে গবেষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ ও ভালো লাগা তৈরি হয়। কোনো একটি সমস্যা নিয়ে কাজ করা, নিজে নিজে সমাধান খুঁজে বের করা এবং নতুন কিছু জানার প্রচেষ্টা থেকেই গবেষণায় নিবেদিত হন তিনি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে পবিত্র বর্মন বলেন, জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (MEXT) স্কলারশিপ পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় আশীর্বাদ ও সৌভাগ্যের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই গবেষণার প্রতি এক ধরনের ভালো লাগা তৈরি হয়। কোনো একটা সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকা, নিজে নিজে সমাধান খুঁজে বের করা এবং নতুন কিছু জানার চেষ্টা—এসবের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পেতাম। এজন্য ছুটি ও ছুটির দিনসহ দিন-রাত নিজের আগ্রহ থেকেই ল্যাবে কাজ করেছি।
গবেষণার এ যাত্রায় তাঁর থিসিস সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পবিত্র বর্মন বলেন, আমার গবেষণার শুরুটা ফেরদৌস রহমান স্যারের হাত ধরে। উনি যখন যা প্রয়োজন আমাকে সেভাবে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং সহযোগিতা করেছেন। সবসময় গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জুগিয়েছেন। স্যারের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
জাপানে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমার ইচ্ছা ছিল এক্সপেরিমেন্টাল রিসার্চ ভালোভাবে শেখার। জাপানে আমি সেই সুযোগ পাবো। জাপান সরকারের মেক্সট স্কলার হিসেবে সামনের সেপ্টেম্বর ইনটেক থেকে আমার উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হবে। এই অর্জনের জন্য আমার পরিবার, শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ এবং সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক ভালো শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি, তাঁদের প্রতি মন থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
পবিত্র বর্মনের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক তৈরির জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে আমরা তার শুরু করেছি। আমাদের শিক্ষার্থীর এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটা শুধু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, দেশের জন্যও একটি গর্বের বিষয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
উল্লেখ্য, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র বর্মনের এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সম্ভাবনাকেও উজ্জ্বল করেছে। জাপান সরকারের মেক্সট স্কলারশিপ নিয়ে তাঁর এই নতুন যাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
kalprakash.com/IM