শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১২:০৪:৪২

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০১
শেয়ার: mail
ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে যুগ যুগ ধরে মানুষের অন্যতম প্রধান ভরসা ইসবগুলের ভুসি। পেট পরিষ্কার রাখা কিংবা ইফতারে শরবত হিসেবে স্বাস্থ্যকর এই শস্যবীজের ভুসি খাওয়ার প্রচলন বেশ পুরোনো। দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, ইসবগুলের ভুসি দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ভুসি দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখা উপকারের চেয়ে ক্ষতির কারণ হতে পারে। সবচেয়ে ভালো ফল পেতে খাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে পানিতে মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করা উচিত।

ভিজিয়ে রেখে খাওয়া কেন অনুচিত: ইসবগুলের ভুসি দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তা অতিরিক্ত পানি শোষণ করে আঠালো ও ভারী হয়ে ফুলে যায়। এর ফলে পেটে যাওয়ার আগেই এর কার্যকারিতা অনেকটাই হ্রাস পায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে গিলে ফেলার সময় খাদ্যনালিতে আটকে গিয়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট বা বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। ইসবগুলের পূর্ণ কার্যকারিতা নির্ভর করে এটি গ্রহণের সঠিক পদ্ধতির ওপর।

প্রয়োজনীয় সতর্কতা:

  • অতিরিক্ত মাত্রায় ইসবগুল সেবনের ফলে ক্ষুধামান্দ্য, গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে।

  • ইসবগুল অন্যান্য ওষুধের শোষণ ও কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোনো নিয়মিত ওষুধ সেবনের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পর ইসবগুল খাওয়া উচিত।

কোন সমস্যায় কীভাবে খাবেন ইসবগুল:

১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: ১ থেকে ২ চা-চামচ ইসবগুলের ভুসি ২৪০ মিলিলিটার সাধারণ পানিতে মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করতে হবে। এটি অন্ত্রে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে মল নরম করে এবং সহজে নিষ্কাশনে সহায়তা করে।

২. ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে: খাবারের পর ২ চা-চামচ ইসবগুল ৩ চা-চামচ টকদইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে। দই এখানে প্রোবায়োটিক হিসেবে কাজ করে এবং ইসবগুল তরল শোষণ করে মলকে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি খাদ্যনালির সংক্রমণ দ্রুত সারিয়ে তোলে।

৩. দীর্ঘদিনের হজমজনিত সমস্যায়: প্রতিদিন ২ চা-চামচ ইসবগুল ২৪০ মিলিলিটার পানিতে গুলিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেতে হবে। এটি পাকস্থলী পরিষ্কার রাখে এবং খাদ্যনালিকে ক্ষতিকর টক্সিনমুক্ত করে।

৪. অর্শ্বরোগ বা পাইলসের উপশমে: ২ চা-চামচ ইসবগুলের ভুসি এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খেতে হবে। এটি মল নরম করে বৃহদন্ত্রের চাপ কমায়, ফলে পাইলসের রোগীদের ব্যথা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমে।

৫. গ্যাস ও বুক জ্বালাপোড়ায়: ২ চা-চামচ ইসবগুলের ভুসি আধা কাপ বা এক কাপ ঠান্ডা দুধে মিশিয়ে খাবারের পর খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা দ্রুত দূর হয়। দুধ ও ইসবগুল অতিরিক্ত অ্যাসিড প্রশমিত করে এবং পাকস্থলীর দেয়ালে প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে।

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণে: ওজন কমাতে চাইলে সকালে খালি পেটে ২৪০ মিলিলিটার পানিতে ২ চা-চামচ ইসবগুল এবং ১-২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।

৭. হৃদরোগ প্রতিরোধে: নিয়মিত খাবারের পর পরিমিত ইসবগুল খেলে তা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের (এলডিএল) মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: ১ থেকে ২ চা-চামচ ইসবগুল ২৪০ মিলিলিটার পানিতে মিশিয়ে খেলে তা খাদ্য থেকে গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সেবনের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং মিষ্টি বা চিনিযুক্ত দইয়ের সঙ্গে খাওয়া পরিহার করতে হবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

বিস্তারিত কমেন্টে