বর্ষাকালে অত্যন্ত সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর শাকসবজির মধ্যে কচুশাক অন্যতম। অনেকেই এর চমৎকার স্বাদের কারণে খাদ্যতালিকায় রাখলেও এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের অসাধারণ স্বাস্থ্যোপকারিতা সম্পর্কে পুরোপুরি জানেন না। পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে প্রস্তুত ও রান্না করে খেলে কচুশাক শরীরের নানা পুষ্টির ঘাটতি পূরণে অনন্য ভূমিকা পালন করে।
কচুশাকে কোন কোন ভিটামিন রয়েছে? কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন ও জৈব উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— • ভিটামিন এ: চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। • ভিটামিন সি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ত্বক ভালো রাখতে এবং ক্ষত দ্রুত সারাতে সহায়তা করে। • ভিটামিন কে: রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে এবং হাড়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। • ফোলেট (ভিটামিন বি৯): নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য বিশেষ উপকারী। • ভিটামিন বি৬: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং শারীরিক শক্তি উৎপাদনে ভূমিকা রাখে।
ভিটামিনের পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কচুশাকে শুধু ভিটামিনই নয়, রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও খাদ্য আঁশ (ডায়েটরি ফাইবার)। এসব উপাদান রক্তস্বল্পতা কমাতে, হাড় মজবুত করতে এবং পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রেখে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত কচুশাক খাওয়ার উপকারিতা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কচুশাক খাদ্যতালিকায় রাখলে যেসব স্বাস্থ্যসুফল মেলে: • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। • চোখের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। • উচ্চ খাদ্য আঁশের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয়। • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। • হাড় ও দাঁতের গঠন সুদৃঢ় থাকে।
কচুশাক খাওয়ার সময় সতর্কতা কচুশাকে প্রাকৃতিকভাবে অক্সালেট থাকে, যার কারণে ঠিকমতো পরিষ্কার ও রান্না না করলে খাওয়ার সময় গলায় চুলকানি বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হতে পারে। তাই ভালোভাবে ধুয়ে এবং পর্যাপ্ত সময় নিয়ে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। এ ছাড়া যাদের কিডনিতে পাথরের সমস্যা বা ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কচুশাক গ্রহণ করা উচিত।
kalprakash.com/IM