বাংলাদেশ ০৬:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo পিসিসিপি’র উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে ২৫০ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ Logo বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক Logo রাঙ্গামাটিতে এতিমদের মুখে হাসি, বিতরণ করা হলো ঈদ উপহার ও নগদ সহায়তা Logo নাটোরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, থানায় মামলা Logo তিস্তার ভাঙনে শেষ আশ্রয় হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার, দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষ Logo গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া Logo ঈদে যাত্রীচাপে রাস্তায় কিছু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে: সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম Logo আরাফাতের দিনে কাবার ঠিক ওপরে সূর্য, ৩৩ বছর পর কাবা শরিফে থাকবে না ছায়া Logo ঈদযাত্রায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা, যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে মোবাইল টিম: ডিএমপি কমিশনার Logo ভ্যাপসা গরমের পর রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি

অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রা: বাংলাদেশিরা মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার

ছবিঃসংগৃহীত

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ৬৩ শতাংশ বাংলাদেশি মানবপাচার চক্রের হাতে বন্দী হয় এবং প্রায় ৮০ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হয়। এই তথ্য দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

সিআইডি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ১৫ থেকে ২০টি এজেন্সি চিহ্নিত করেছে। তবে মামলা হলেও অনেক দালাল জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূলহোতাদের ধরতে না পারা এই দুর্দশার মূল কারণ।

বিদেশের রঙিন স্বপ্নে আকৃষ্ট হয়ে অনেক তরুণ অবৈধভাবে লিবিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে ইউরোপে যেতে চায়। এক দশকে অন্তত ৭০ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার সময় ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অনেকে নৌকাডুবি, অপহরণ, নির্যাতন বা গুলিতে নিহত হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করেও অনেকে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

মানবপাচার সংক্রান্ত বিশ্লেষক শরিফুল হাসান বলেন, “দেশে যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ না থাকলেও তরুণরা কেন বিদেশে যাওয়াকেই সফলতার মানদণ্ড মনে করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ৪,৪২৭টি মানবপাচার মামলার মধ্যে মাত্র ৯০৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে সিআইডির হাতে ৩১৬টি মামলা আছে, যার মধ্যে ৩১টি লিবিয়া কেন্দ্রিক। তবে জামিনে ছাড়া পেলে দালালদের আবার ধরার সুযোগ কম থাকে।

ব্র্যাকের সমীক্ষা অনুসারে, এই ধরনের যাত্রার অধিকাংশ তরুণ ঢাকার আশপাশ, মাদারীপুর ও সিলেট অঞ্চলের ১০-১২ জেলার বাসিন্দা। স্থানীয় দালালরা ৬০ শতাংশ পরিবারকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে ৮৯ শতাংশই কাজ পাননি। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬,২৬০ জন দেশে ফিরে এসেছে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

পিসিসিপি’র উদ্যোগে রাঙ্গামাটিতে ২৫০ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

অবৈধ সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রা: বাংলাদেশিরা মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকার

প্রকাশিত: ০৬:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ৬৩ শতাংশ বাংলাদেশি মানবপাচার চক্রের হাতে বন্দী হয় এবং প্রায় ৮০ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হয়। এই তথ্য দিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক।

সিআইডি মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ১৫ থেকে ২০টি এজেন্সি চিহ্নিত করেছে। তবে মামলা হলেও অনেক দালাল জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূলহোতাদের ধরতে না পারা এই দুর্দশার মূল কারণ।

বিদেশের রঙিন স্বপ্নে আকৃষ্ট হয়ে অনেক তরুণ অবৈধভাবে লিবিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ হয়ে ইউরোপে যেতে চায়। এক দশকে অন্তত ৭০ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার সময় ১৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। অনেকে নৌকাডুবি, অপহরণ, নির্যাতন বা গুলিতে নিহত হচ্ছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করেও অনেকে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসেন।

মানবপাচার সংক্রান্ত বিশ্লেষক শরিফুল হাসান বলেন, “দেশে যুদ্ধ বা দুর্ভিক্ষ না থাকলেও তরুণরা কেন বিদেশে যাওয়াকেই সফলতার মানদণ্ড মনে করছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।”

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের ৪,৪২৭টি মানবপাচার মামলার মধ্যে মাত্র ৯০৯টির নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে সিআইডির হাতে ৩১৬টি মামলা আছে, যার মধ্যে ৩১টি লিবিয়া কেন্দ্রিক। তবে জামিনে ছাড়া পেলে দালালদের আবার ধরার সুযোগ কম থাকে।

ব্র্যাকের সমীক্ষা অনুসারে, এই ধরনের যাত্রার অধিকাংশ তরুণ ঢাকার আশপাশ, মাদারীপুর ও সিলেট অঞ্চলের ১০-১২ জেলার বাসিন্দা। স্থানীয় দালালরা ৬০ শতাংশ পরিবারকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখালেও বাস্তবে ৮৯ শতাংশই কাজ পাননি। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬,২৬০ জন দেশে ফিরে এসেছে।

kalprakash.com/SS