রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ | ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৯ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:৩৭:৪৭

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা: কাদের খাওয়া উচিত, কাদের নয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৫
শেয়ার: mail
ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা: কাদের খাওয়া উচিত, কাদের নয়

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

এক সময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত থাকলেও এখন বাংলাদেশের বাজারেও বেশ সহজলভ্য ড্রাগন ফল। আকর্ষণীয় রং আর মিষ্টি স্বাদের কারণে অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ফলটি। কেবল স্বাদই নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা।

তবে সবার জন্য এটি সমানভাবে উপকারী নয়। কিছু শারীরিক অবস্থায় ড্রাগন ফল খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। কারা এটি নিশ্চিন্তে খেতে পারবেন আর কাদের সতর্ক থাকা উচিত, তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ড্রাগন ফলে কী কী পুষ্টি রয়েছে? ড্রাগন ফলে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি১, বি২ ও বি৩, সামান্য পরিমাণ ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং প্রচুর খাদ্য আঁশ (ডায়েটরি ফাইবার)। এছাড়া এতে রয়েছে বেটালেইন ও ফ্ল্যাভোনয়েড নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

এক কাপ (প্রায় ২২৫ গ্রাম) ড্রাগন ফলে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং পানির পরিমাণ বেশি। তাই এটি হালকা ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে অত্যন্ত উপযোগী।

যাদের জন্য উপকারী হতে পারে:

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে: ড্রাগন ফলে থাকা পর্যাপ্ত ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য ড্রাগন ফল দারুণ কার্যকর। এতে থাকা খাদ্য আঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে এবং হজমপ্রক্রিয়া সহজ করে।

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে: কম ক্যালরি, বেশি পানি ও পর্যাপ্ত ফাইবার থাকার কারণে ড্রাগন ফল খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকে। ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে।

  • হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায়: ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই ফলে থাকা উপাদানগুলো রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।

  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: পরিমিত পরিমাণে ড্রাগন ফল খাওয়া অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নিরাপদ। এর ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে বাধা দেয়।

গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য কি নিরাপদ? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোভাবে ধুয়ে পরিমিত পরিমাণে খেলে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য ড্রাগন ফল সাধারণত নিরাপদ। এতে থাকা ভিটামিন সি, ফাইবার ও ম্যাগনেসিয়াম তাদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

যাদের সতর্ক থাকা উচিত:

  • অ্যালার্জি থাকলে: ড্রাগন ফলে কারও অ্যালার্জি বা শারীরিক সংবেদনশীলতা থাকলে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।

  • কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে: ড্রাগন ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে। যাদের কিডনি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

  • সংবেদনশীল পেট হলে: একসঙ্গে বেশি পরিমাণে ড্রাগন ফল খেলে অতিরিক্ত ফাইবারের কারণে কারও কারও গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • নিম্ন রক্তচাপ থাকলে: ড্রাগন ফল রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়—এমন জোরালো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে যাদের রক্তচাপ অনেক কম বা যারা নিয়মিত রক্তচাপের ওষুধ সেবন করেন, তাদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই শ্রেয়।

প্রতিদিন কতটা খাওয়া উচিত? ড্রাগন ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কঠোর নিয়ম নেই। তবে একটি মাঝারি আকারের ড্রাগন ফল বা প্রায় এক কাপ কাটা অংশ একবারে খাওয়া সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

যেসব ভুল ধারণা প্রচলিত:

  • ড্রাগন ফল খেলে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া পুরোপুরি সেরে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। এতে আয়রন থাকলেও তা চিকিৎসার বিকল্প নয়।

  • ড্রাগন ফল ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময় করে—এ দাবিরও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

  • সব কিডনি রোগীর জন্যই এটি ক্ষতিকর—এমন ধারণাও সঠিক নয়। মূলত যাদের রক্তে পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেই সতর্কতা প্রয়োজন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা: কাদের খাওয়া উচিত, কাদের নয়

বিস্তারিত কমেন্টে