চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে জুয়া, অবৈধ বক্সিং মেশিন, ঘোড়ার গাড়ি ও চাঁদাবাজির দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পর্যটকরা। ঈদ বা সরকারি ছুটিতে যেখানে হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকার কথা, সেখানে এখন নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলায় স্বস্তি হারাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে বসছে জুয়ার আসর। হাঁটার রাস্তা দখল করে বসানো হয়েছে জুয়ার বোর্ড, যা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এসব কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রায়ই বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
এছাড়া সৈকতজুড়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বসানো হয়েছে বক্সিং মেশিন ও বিভিন্ন অবৈধ বিনোদন সরঞ্জাম। ফলে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ঝুপড়ি দোকান গড়ে উঠেছে, যেখানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান থেকে প্রতিদিন আকারভেদে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় এসব জুয়া ও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইসমাইল নামের ব্যক্তি বলেন, জুয়ার বোর্ড তার নয় এবং অন্যদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি জানান, তার মালিকানায় কেবল দুটি বক্সিং মেশিন রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতার কারণেই এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারছে।
এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সৈকত এলাকায় এ ধরনের কোনো কার্যক্রম তার নজরে আসেনি। তবে যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পতেঙ্গা ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাম হাসান জানান, সৈকত এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জুয়া বা কোনো অবৈধ কার্যক্রমের বিষয়ে তথ্য পেলে আমরা পূর্বেও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আর নতুন কোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
পর্যটকরা বলছেন, এসব অনিয়মের কারণে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত হচ্ছে। ইপিজেড এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, “আগে হাঁটার পথগুলো ফাঁকা ছিল, এখন সেখানে জুয়ার বোর্ড ও বক্সিং মেশিনে ভরে গেছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদে চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
টাইগার পাস এলাকার রেলওয়ে কর্মকর্তা ইয়াসিন জানান, “পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নিম্নমানের খাবার, অবৈধ যানবাহন ও জুয়ার আসরের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত এসব অনিয়ম বন্ধ না করা হলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের আগ্রহও কমে যেতে পারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 





















