নারী ও শিশুদের সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং জেন্ডার সমতা বিষয়ে রাঙামাটিতে সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে চিংহ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে তিন পার্বত্য জেলা থেকে বাছাইকৃত প্রমিলা ফুটবল খেলোয়াড়রা অংশ নেন। প্রকল্পের আওতায় প্রতি জেলায় ২২ জন করে মোট ১৯৮ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে ৯টি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্ম সচিব) শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ।
আলোচনায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, আইনি সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথম সেশনে শিশু ও কিশোরীদের পুষ্টি, বয়ঃসন্ধিকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য, পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দ্বিতীয় সেশনে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশু অধিকার আইন বিষয়ে আইনি সচেতনতা দেওয়া হয়। তৃতীয় সেশনে সাইবার নিরাপত্তা, জেন্ডার সমতা ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের পাশাপাশি ক্রীড়ার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচক হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের লেকচারার ডা. পম্পী চাকমা, আইনি সুরক্ষা বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, রাঙামাটির পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী মাকসুদা হক এবং নারী ও শিশু বিষয়ক সচেতনতা নিয়ে উইমেন রিসোর্স নেটওয়ার্ক, রাঙামাটির সদস্য নুকু চাকমা বক্তব্য দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আইনজীবী মাকসুদা হক বলেন, বাল্যবিয়ে, যৌতুক ও পারিবারিক সহিংসতা নারীর প্রতি অন্যায়ের অন্যতম প্রধান কারণ। বাল্যবিয়ে ও যৌতুক আইনের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে শারীরিক, মানসিক বা অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হলে নারীদের নীরব না থেকে আইনগত সহায়তা নেওয়ার অধিকার রয়েছে। নারী ও শিশুদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত পরিবার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নিজের অধিকার জানা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই নিরাপদ সমাজ গঠনের পথ।
আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের নারী ফুটবলারদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, সহিংসতা ও সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষিত রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর। খেলোয়াড়দের নারী ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে উৎসাহিত করে সমাজে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
kalprakash.com/IM