শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১২:৩৯:২৭

শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের আসন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৪
শেয়ার: mail
শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের আসন

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মাঠপর্যায়ের আন্দোলন-সংগ্রাম, শিক্ষকতা ও জনপ্রতিনিধিত্বের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর দলের পদ ছাড়েন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় পৌরসভার চেয়ারম্যান, দুই মেয়াদের সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সরকারের মন্ত্রী এবং দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে থাকার পর এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে সমাসীন হতে যাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের এই কৃতি সন্তান।

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষাজীবন:

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ঢাকায় পাড়ি জমান। ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতি:

তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ষাটের দশকে ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে অধ্যয়নকালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরাসরি রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে কারাবরণ করেন।

শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি:

শিক্ষা শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ফখরুল। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর বিশেষ সরকারি সচিব (পিএস) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন।

জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রী হিসেবে পথচলা:

১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারে তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তিনি আবারও বিজয়ী হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।

কঠিন সময়ে বিএনপির কাণ্ডারি:

২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাঁধে অর্পিত হয় দল পরিচালনার দায়িত্ব। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস ও চিকিৎসা এবং দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানকালীন দীর্ঘ দেড় দশক ধরে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে তিনি বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে নেতৃত্ব দিয়ে যান। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রায় সাড়ে ৪০০ দিনেরও বেশি সময় কারাভোগ করেছেন।

পারিবারিক জীবন:

ব্যক্তিগত জীবনে দুই কন্যার জনক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর স্ত্রী রাহাত আরা বেগম একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ সিডনিতে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত।

ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে সফল শিক্ষক, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং বিএনপির দীর্ঘমেয়াদি সফল মহাসচিব—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই পদচারণা বাংলাদেশের জাতীয় ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের আসন

বিস্তারিত কমেন্টে