কেশবপুরের সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে বদলিজনিত কারণে বিদায় নিলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন। বিদায়বেলায় নিজের আবেগকে কোনোভাবেই ধরে রাখতে পারেননি তিনি; সহকর্মী ও স্থানীয় অধিবাসীদের উপস্থিতিতে অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় কর্মস্থল কেশবপুরকে বিদায় জানান এই কর্মকর্তা।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশে তাঁকে প্রাতিষ্ঠানিক বিদায়সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ১৭ মার্চ কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন রেকসোনা খাতুন। প্রায় দেড় বছরের কর্মকালে সততা, মানবিকতা ও গতিশীল জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা ও সুনাম অর্জন করেন। দায়িত্ব পালনকালে অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবন্ধীদের মাঝে সাহায্য ও হুইলচেয়ার বিতরণ, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক বৃক্ষরোপণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সরকারি সেবার প্রশাসনিক মানোন্নয়নে তাঁর অবদান ছিল স্থানীয়ভাবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজগম্য ও আন্তরিক আচরণ উপজেলাজুড়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও শিক্ষকদের সঙ্গে তিনি তৈরি করেছিলেন এক আত্মিক সম্পর্ক।
বিদায় অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে চরম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রেকসোনা খাতুন। তিনি বলেন, “কেশবপুরে দায়িত্ব পালন করা আমার পুরো কর্মজীবনের অন্যতম সুন্দর ও স্মরণীয় একটি অধ্যায়। এখানকার মানুষের ভালোবাসা ও সহকর্মীদের সহযোগিতার কথা আমি হৃদয়ে লালন করব। দায়িত্বের তাগিদে কেশবপুর ছাড়লেও এখানকার মানুষ ও স্মৃতিগুলো সব সময় আমার মানসপটে থাকবে।”
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিদায় জানাতে আসা সর্বস্তরের মানুষের স্মৃতিচারণে এক স্পর্শকাতর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সরকারি নিয়মের বিদায় হলেও উপস্থিত মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আপনজনকে বিদায় জানানোর এক আবেগময় মুহূর্ত।
kalprakash.com/IM