যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাজিমাত করে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’ (প্রতিনিধি পরিষদ)-এর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁর পারিবারিক ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অভিশংসনে না গিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণের শক্ত ভিত্তি তৈরির কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ব্যবসায়িক স্বার্থ, রাজনৈতিক দাতা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তথ্য তলব, সমন জারি ও গণশুনানির কৌশল তৈরি করছেন জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতারা।
ডেমোক্র্যাটদের মতে, হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক নজরদারি এড়াতে সরাসরি নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে লড়াইয়ে না গিয়ে ট্রাম্পের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেসরকারি কোম্পানি, বিদেশি সার্বভৌম তহবিল এবং ব্যাংকিং রেকর্ড খতিয়ে দেখা বেশি ফলপ্রসূ হবে।
তদন্তের প্রাথমিক তালিকায় অ্যাপল, অ্যালফাবেট (ইউটিউব), প্যালান্টির টেকনোলজিজ, ব্ল্যাকস্টোন, ব্ল্যাকরক এবং ইলন মাস্কের মালিকানাধীন টেসলার মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উঠে এসেছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) চুক্তি, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থ, বিতর্কিত ‘পে-টু-প্লে’ ব্যবস্থা এবং পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র অংশীদার থাকা ‘১৭৮৯ ক্যাপিটাল’ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন খতিয়ে দেখতে চান।
পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধি পরিষদের জুডিশিয়ারি ও ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া ও জেমি রাসকিন জানান, “সন্দেহজনক চুক্তি থেকে শুরু করে ট্রাম্প পরিবারের অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং গোপন দর-কষাকষির দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।”
অবশ্য ট্রাম্পকে শুরুতেই অভিশংসনের পথে না যাওয়ার কারণ হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের প্রথম মেয়াদের অভিজ্ঞতাকে দায়ী করা হচ্ছে। সেসময় প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্প দুবার অভিযুক্ত হলেও সিনেটে খালাস পান এবং উল্টো নিজেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হিসেবে তুলে ধরে ফায়দা নেন।
হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস জানিয়েছেন, দলের প্রথম মনোযোগ থাকবে অর্থনীতি ও জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর। তবে তদন্তে সুনির্দিষ্ট বড় ধরনের কোনো অনিয়ম ও অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিশংসনের পথও উন্মুক্ত থাকবে।
kalprakash.com/IM