“কেন আমার সন্তানের শিক্ষা কয়েকটি লিংক, গেম আর ভিডিওর ধারাবাহিকতায় পরিণত হয়েছে? কেন আমার সন্তান প্রতিরাতে হোমওয়ার্কের জন্য অনলাইনে থাকছে, শারীরিক জটিলতায় ভুগছে এবং কেনই-বা স্কুলে দেওয়া আইপ্যাডে অশ্লীল কনটেন্ট দেখছে?”— এআরসি (দায়িত্বশীল নাগরিকদের জোট) ২০২৬ সম্মেলনে এমন ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী ও শিক্ষা-অধিকারকর্মী সোফি উইঙ্কলম্যান।
যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের এই সদস্য সম্মেলনে শ্রেণিকক্ষে স্ক্রিন, এডটেক (শিক্ষায় প্রযুক্তি) এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশ্বের কোটি কোটি অভিভাবকের মনের জমানো প্রশ্নের প্রতিফলন ঘটিয়ে সোফি উইঙ্কলম্যান ক্লাসরুমে ডিভাইসের পরিবর্তে বই, হাতে লেখা ও মানবিক শিক্ষকের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
সোফি উইঙ্কলম্যান তথ্য তুলে ধরে জানান, যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশু রয়েছে, যাদের প্রতিটি পাঠদানই পরিচালিত হয় স্ক্রিনের সামনে। অথচ আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে— শ্রেণিকক্ষে স্মার্ট ডিভাইস প্রবেশের পর থেকেই বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের শেখার মনোযোগ, কল্পনাশক্তি, চিন্তা করার ক্ষমতা ও পরীক্ষার ফলাফল নিম্নমুখী হচ্ছে।
স্নায়ুবিজ্ঞান ও শিক্ষার মৌলিক গবেষণা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “মানুষ একটি শারীরিক সত্তা, তাই মানুষের শেখার প্রক্রিয়াটিও শারীরিক হওয়াই স্বাভাবিক। বইয়ের গন্ধ, প্রচ্ছদ, অক্ষরের বিন্যাস ও কাগজের স্পর্শ মানুষকে যেভাবে নতুন তথ্য আত্মস্থ করতে সাহায্য করে, কোনো ডিজিটাল স্ক্রিন কখনোই সেই সামগ্রিক অনুভূতি উপহার দিতে পারে না।”
আজকের ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির মোহ কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনোযোগ সুরক্ষায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ ‘অ্যানালগ শিক্ষা ব্যবস্থার’ গুরুত্বও তিনি সবার সামনে তুলে ধরেন।
kalprakash.com/IM