মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ঘিরে কূটনৈতিক জটিলতার মধ্যেই দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফরে সৌদি আরব যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরিফ।
সফরকালে তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) নিশ্চিত করেছে, বৈঠকে বহুমাত্রিক পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্ক আরও জোরদার ও সুসংহত করার কৌশল নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে দুই শীর্ষ নেতা আলোচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে একটি জ্যেষ্ঠ ও প্রভাববিস্তারকারী সামরিক-কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল তাঁর সফরসঙ্গী হচ্ছে। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনাপ্রধান, ডিফেন্স স্টাফের প্রধান এবং সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও পদস্থ কর্মকর্তা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্নায়ুযুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও নৌপথের নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের এই রিয়াদ সফর ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান সংকট নিরসনে পাকিস্তান আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালির উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছি। এ অঞ্চলের টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য।”
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক সমন্বয় বাড়িয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চায় পাকিস্তান। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণে ইসলামাবাদ ও রিয়াদের এই যৌথ পদক্ষেপ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটাতে পারে।
kalprakash.com/IM