মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | সকাল ৯:২১:১১

কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় পাবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৬
শেয়ার: mail
কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় পাবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের প্রশাসনিক অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বহিরাগত কোনো অতিথিকে নিয়ে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজনের পূর্বানুমতি না নেওয়ায় এই অনুমোদনে অসম্মতি জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ইনকিলাব মঞ্চের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক আলোচনা সভা ও শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল’। সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবেরের অংশগ্রহণের বিষয়টি জেনেই শেষ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এর প্রতিবাদে বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক থেকে এক প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রূপ নেয়।

বিক্ষোভ মিছিলে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের, কেন্দ্রীয় সদস্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, মাসুদুর রহমান আদনান, হাবিবুল্লাহ মেজবাহ ও আবু ওমায়ের, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলার সাবেক আহ্বায়ক বরকতুল্লাহ ফাহাদ, সাবেক মুখপাত্র সিরাজুম মুনিরা, পাবিপ্রবি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মজনু আলম, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ইব্রাহিম খলিল এবং পাবনার জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

পাবিপ্রবি শাখা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মজনু আলম অভিযোগ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে আমাদের মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছিল এবং আমরা প্রথা অনুযায়ী লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছিলাম। তবে সময় ও স্থান চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রক্টর অফিসে লিখিত অনুমোদনের কপি আনতে গেলে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক উপস্থিত থাকবেন—তাই অনুমতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে পাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চ আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত আবেদন জমা দেয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা নিজস্ব কর্মসূচি পরিচালনা করতেই পারে, তাতে কোনো বাধা নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাইরের অতিথি এনে বড় কোনো আয়োজন করতে হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হয়। তারা সেই পূর্বানুমতি নেয়নি বলেই কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি।”

ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের কড়া মন্তব্য করে বলেন, “কোথা থেকে অদৃশ্য বার্তা আসে এবং কেন কর্মসূচি বন্ধ করা হয়, তা আমাদের অজানা নয়। আমরা শুধু সতর্ক করে দিতে চাই—একজন স্বৈরশাসক ২০৪১ সালের স্বপ্ন দেখে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। এখন আবার কেউ যদি ভিন্ন বয়ান তৈরির চেষ্টা করে তবে মনে রাখবেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে প্রতারণা করা হলে ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।”

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward