বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার আটজুড়ী এলাকায় মধুমতি নদীতে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রায় দুই হাজার মিটার নিষিদ্ধ চায়না ও বেহুন্দি জাল জব্দ করার পাশাপাশি অবৈধ মৎস্য আহরণের দায়ে দুই জেলেকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দকৃত জালগুলো পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী মধুমতি নদীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে ৪০টি চায়না দুয়ারি জাল এবং ৪টি নিষিদ্ধ বেহুন্দি জাল উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়, যার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় দুই হাজার মিটার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমনা আইরিন। অভিযানকালে মোল্লাহাট সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষা, দেশীয় প্রজাতির মাছের মুক্ত প্রজনন নিশ্চিত করা এবং সরকারিভাবে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ নির্মূল করতেই নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অমান্য করে অবৈধ উপায়ে মাছ শিকারের চেষ্টা করা হলে ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মধুমতি নদীতে কারেন্ট, চায়না ও বেহুন্দি জালের মতো বিধ্বংসী জালের অবৈধ ব্যবহার রোধ করা গেলে দেশীয় মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে এই সাঁড়াশি অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে।
kalprakash.com/IM