মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | সকাল ৯:০৩:৪৮

মিঠাপুকুরে হালের জমিতে মাছ ধরার ধুম, মুখরিত গ্রামবাংলা

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩২
শেয়ার: mail
মিঠাপুকুরে হালের জমিতে মাছ ধরার ধুম, মুখরিত গ্রামবাংলা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার মৌসুমে আষাঢ় ও শ্রাবণজুড়ে অব্যাহত বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট, নদী-নালা, খাল-বিল ও হালের জমি প্লাবিত হওয়ায় রংপুরের মিঠাপুকুরজুড়ে দেশীয় মাছ ধরার হিড়িক পড়েছে। কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু, কিশোর, যুবক ও বয়োবৃদ্ধরা মাছ ধরার রকমারি সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়ছেন হালের জমি ও জলাবদ্ধ মাঠে। গ্রামজুড়ে যেন সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন উৎসবের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার নতুন পানিতে খাল-বিল ও পুকুর উপচে শিং, মাগুর, কৈ, টাকি, শোল, পুঁটি, বাইম ও টেংরাসহ হরেক প্রজাতির দেশীয় মাছ হালের জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব মাছ ধরতে কেউ ব্যবহার করছেন খেপলা জাল, চাঁই, ফাঁসি জাল, পলো, টেঁটা কিংবা হাতজাল। আবার অনেকে সরঞ্জাম ছাড়া খাল বা জমির পানি ছেঁচে খালি হাতেই মাছ ধরছেন। পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে মাছ ধরার এই মহোৎসবে মেতে উঠেছেন গ্রামের মানুষ।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, হালের জমিতে মাছ ধরা শুধু জীবিকা বা খাদ্যের জোগান নয়; বরং এটি রূপসী বাংলার আবহমান গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য অংশ। প্রতিবছর বর্ষায় এমন চিত্র গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপকে আরও প্রাণবন্ত ও মুখরিত করে তোলে। তবে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশকের ব্যবহার ও জলাশয় ভরাট হওয়ার কারণে আগের তুলনায় দেশীয় মাছের প্রাচুর্য অনেকটাই কমে এসেছে বলে আফসোস করেন তাঁরা।

স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, বর্ষার এই মাছ ধরার দৃশ্য কেবল গ্রামবাসীর ক্ষণিকের আনন্দই নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনধারার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবৃদ্ধি ও আবাসস্থল রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward