বাংলাদেশ ০২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বেজুরায় বেনু মেম্বার হাডুডু ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন নাসিরনগর একাদশ Logo বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর Logo বিশ্বকাপ জিতবে স্পেন, ভবিষ্যদ্বাণী জন টেরির Logo কলকাতা বিমানবন্দর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, মসজিদ ইস্যুতে উত্তেজনা Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় মধ্যস্থতার চাপে পাকিস্তান Logo উগান্ডায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ২০ শিক্ষার্থীসহ ২১ জন Logo কুড়িগ্রামে গাঁজা, ইয়াবা ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ, আটক ৩ Logo আর্জেন্টিনাকে হারানোর উপায় জানালেন পেপ গার্দিওলা Logo কাপ্তাই লেকের পানি বাড়ছে, শনিবার খুলবে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট Logo বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা দলকে আবেগঘন বার্তা ডি মারিয়ার

কলকাতা বিমানবন্দর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, মসজিদ ইস্যুতে উত্তেজনা

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে রানওয়ে-সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বাঁকড়া মসজিদে অনির্দিষ্টকালের জন্য নামাজ বন্ধের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী ও জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই জানান, সেদিন কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে না। এর আগে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ সেখানে জমায়েত হলেও কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় তারা অন্যত্র জুমার নামাজ আদায় করেন।

এদিকে, শুক্রবার ভোর ৫টা থেকেই বাঁকড়া মসজিদ ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রায় ২০০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করে চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।

পাশাপাশি গার্ডরেল, জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এমনকি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বাড়ির আশপাশেও রুট মার্চ পরিচালনা করা হয় এবং বাইরে থেকে কেউ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদেরও আটকে দেওয়া হয়।

প্রায় ১৩৫ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদে স্থানীয় মুসল্লিরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজ আদায় করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, বামফ্রন্টের ৩৫ বছরের শাসনকাল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের সরকার—কোনো সময়ই সেখানে নামাজ আদায়ে বাধা সৃষ্টি হয়নি।

তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, রানওয়ের পাশে মসজিদটি থাকার কারণে বৃহৎ আকারের বোয়িং যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণে সমস্যা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক যাত্রী ও বিদেশি পণ্যবাহী বিমানের একটি বড় অংশকে দিল্লি, মুম্বাই বা গুজরাটের বিমানবন্দরে অবতরণ করে পরে স্থলপথে কলকাতায় পৌঁছাতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রাজ্য সরকার, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মুসলিম প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের স্বার্থে বিকল্প স্থানে মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মুসলিম কমিটিগুলো নীতিগতভাবে সম্মতি জানায়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদে নামাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

কিন্তু বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী দাবি করেন, ঐতিহাসিক ওই মসজিদেই পুনরায় নামাজ আদায়ের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শুক্রবার বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন। তবে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই শেষ মুহূর্তে সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে জানান, সরকার কারও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং কলকাতা বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার দাবি, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, বিশেষ করে বড় আকারের যাত্রী ও কার্গো বিমান পরিচালনায় কলকাতার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত বাঁকড়া মসজিদকে ঘিরে ধর্মীয় অধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। সিদ্দিকুল্লার কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

বেজুরায় বেনু মেম্বার হাডুডু ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন নাসিরনগর একাদশ

কলকাতা বিমানবন্দর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, মসজিদ ইস্যুতে উত্তেজনা

প্রকাশিত: ০৭:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে রানওয়ে-সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বাঁকড়া মসজিদে অনির্দিষ্টকালের জন্য নামাজ বন্ধের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন তৃণমূলের সাবেক মন্ত্রী ও জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তিনি। তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই জানান, সেদিন কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে না। এর আগে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশ সেখানে জমায়েত হলেও কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় তারা অন্যত্র জুমার নামাজ আদায় করেন।

এদিকে, শুক্রবার ভোর ৫টা থেকেই বাঁকড়া মসজিদ ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রায় ২০০ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি করে চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়।

পাশাপাশি গার্ডরেল, জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন প্রস্তুত রাখা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এমনকি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর বাড়ির আশপাশেও রুট মার্চ পরিচালনা করা হয় এবং বাইরে থেকে কেউ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদেরও আটকে দেওয়া হয়।

প্রায় ১৩৫ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদে স্থানীয় মুসল্লিরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামাজ আদায় করে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, বামফ্রন্টের ৩৫ বছরের শাসনকাল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের সরকার—কোনো সময়ই সেখানে নামাজ আদায়ে বাধা সৃষ্টি হয়নি।

তবে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কলকাতা বিমানবন্দরের সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, রানওয়ের পাশে মসজিদটি থাকার কারণে বৃহৎ আকারের বোয়িং যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণে সমস্যা হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক যাত্রী ও বিদেশি পণ্যবাহী বিমানের একটি বড় অংশকে দিল্লি, মুম্বাই বা গুজরাটের বিমানবন্দরে অবতরণ করে পরে স্থলপথে কলকাতায় পৌঁছাতে হয়।

এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি রাজ্য সরকার, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং মুসলিম প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের স্বার্থে বিকল্প স্থানে মসজিদ স্থানান্তরের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মুসলিম কমিটিগুলো নীতিগতভাবে সম্মতি জানায়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসজিদে নামাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

কিন্তু বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী দাবি করেন, ঐতিহাসিক ওই মসজিদেই পুনরায় নামাজ আদায়ের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শুক্রবার বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেটের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন। তবে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই শেষ মুহূর্তে সেই কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে জানান, সরকার কারও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তা, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং কলকাতা বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার দাবি, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ সম্পন্ন হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, বিশেষ করে বড় আকারের যাত্রী ও কার্গো বিমান পরিচালনায় কলকাতার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত বাঁকড়া মসজিদকে ঘিরে ধর্মীয় অধিকার, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। সিদ্দিকুল্লার কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর আপাতত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

kalprakash.com/IM