অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে চীনের একটি বিশ্বমানের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানম। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
এ অবস্থায় ফাতেমা ও তার পরিবার সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং হৃদয়বান মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।
ফাতেমা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঁকফো নতুনপাড়া গ্রামের পিকআপচালক লাভলু খাঁনের মেয়ে।
জানা গেছে, তিনি ২০২২ সালে জিগরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০২৪ সালে টাঙ্গাইলের মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান আদর্শ কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৭ অর্জন করেন। পরে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পেয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে দাঁড়াননি। আইইএলটিএস সম্পন্ন করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন শুরু করেন।
চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল সিএসসিএ (CSCA)-এর মাধ্যমে আবেদন করে অনলাইন ভাইভায় উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে ২২ মে জানতে পারেন, চীনের হেনান প্রদেশের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব ঝেংঝৌ ইউনিভার্সিটিতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জেডডব্লিউ (JW) ডকুমেন্ট পাওয়ার পর গত ৬ জুলাই ঢাকায় চীনা দূতাবাস থেকে শিক্ষার্থী ভিসাও সংগ্রহ করেছেন।
ফাতেমার পরিবার জানায়, তার মা একজন গৃহিণী এবং বাবা পিকআপচালক। চার সন্তানের সংসারে স্বল্প আয়ে কোনোমতে সংসার চলে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে নবম শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সংসারের অভাবের মধ্যেও ফাতেমা টিউশনি করে নিজের লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন।
আগামী ৬ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চীনে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফাতেমার মা হাবিবা খানম বলেন, অভাবের কারণে আমি নিজেও এসএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারিনি। তাই কষ্ট করে সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছি। কিন্তু মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে আমার মেয়ের স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।
বাবা লাভলু খাঁন বলেন, আমরা যে দুটি ঘরে থাকি, সেটিও আমার ভাইয়ের দেওয়া। এমন অবস্থায় মেয়ের বিদেশে পড়াশোনার খরচ বহন করা আমার পক্ষে অসম্ভব। আমি দেশের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি।
ফাতেমা খানম বলেন, ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। দেশের সরকারি মেডিকেলে সুযোগ না পেলেও হাল ছাড়িনি। অনেক চেষ্টা করে চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু শুধু অর্থের অভাবে যদি ভর্তি হতে না পারি, সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। কেউ যদি আমার পড়াশোনার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমি আজীবন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকব।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক, বাগাতিপাড়া শাখা
হিসাব নম্বর: ৪৯০২৩০১০১৭৮৫০
বিকাশ/মোবাইল: ০১৭৩০৬০৪২৮৯
kalprakash.com/IM
মিজানুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি 























