বাংলাদেশ ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ Logo শেষ মুহূর্তের গোলে নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ Logo ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আমিরাতের Logo অর্থনৈতিক সংস্কারে নতুন সহায়তা চেয়ে আইএমএফের দ্বারস্থ বাংলাদেশ Logo মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে? Logo অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করলেন সাগর-রুনির সন্তান মেঘ Logo গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে কত বাড়ল বিদ্যুতের দাম? Logo যুগ্মসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত Logo নড়বড়ে কাঠের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে চরাঞ্চলের ২০ হাজার মানুষ Logo খানজাহান আলীর দিঘির শেষ কুমির অপসারণ, সাড়ে ৬শ বছরের ঐতিহ্যের অবসান

ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজায় ভোলায় নেমেছিল জনতার ঢল। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন।

এর আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এই বর্ষীয়ান নেতাকে। দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে তার মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হয়। পরে ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ নেওয়া হয় জানাজার মাঠে।

মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার ভোলায় পৌঁছালে হেলিপ্যাড এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জানাজা শেষে জেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সংগ্রাম ও নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা হিসেবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণাও দেন তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক অধিনায়কের একজন এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিল্প, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়েও সক্রিয় ছিলেন এই প্রবীণ নেতা।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অবদান ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

kalprakash.com/SS
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ

ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন

প্রকাশিত: ০৩:৩৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজায় ভোলায় নেমেছিল জনতার ঢল। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন।

এর আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এই বর্ষীয়ান নেতাকে। দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে তার মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হয়। পরে ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ নেওয়া হয় জানাজার মাঠে।

মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টার ভোলায় পৌঁছালে হেলিপ্যাড এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

জানাজা শেষে জেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সংগ্রাম ও নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য জীবন

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম নেতা হিসেবে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করার ঘোষণাও দেন তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন মুজিব বাহিনীর চার আঞ্চলিক অধিনায়কের একজন এবং দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিল্প, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৯টিতে বিজয়ী হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনের শেষ সময়েও সক্রিয় ছিলেন এই প্রবীণ নেতা।

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে ভোলাসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার জানাজায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে তার দীর্ঘ অবদান ও জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

kalprakash.com/SS
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল, পারিবারিক কবরস্থানে দাফন