বাংলাদেশ ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ফ্রিজেও মাংস পচে যায় যেসব অসতর্কতায়

সংগৃহীত ছবি

কোরবানির ঈদে ঘরে ঘরে যখন ফ্রিজ ভর্তি থাকে টাটকা মাংস, তখন অনেকেই ভাবেন শুধু ফ্রিজে রাখলেই সেটা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে কিছু সাধারণ অসতর্কতার কারণেই ফ্রিজেও মাংস দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো—গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে শুধু মাংস নয়, ভেতরের অন্যান্য খাবারও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কোরবানির পর মাংস কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর ফ্রিজে রাখা উচিত, তবে সেটি দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে না রাখাই নিরাপদ।

আরেকটি সাধারণ ভুল হলো ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা বজায় না রাখা। মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা ০ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ফ্রিজারের ক্ষেত্রে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি বা তার নিচে থাকা জরুরি। কিন্তু অনেকেই ফ্রিজ অতিরিক্ত খুলে রাখেন বা খুব বেশি মাংস একসঙ্গে ভরে ফেলেন, ফলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এতে মাংস দ্রুত পচে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়।

মাংস ঠিকভাবে না মোড়ানো বা বায়ুরোধী পাত্রে না রাখাও বড় একটি ভুল। খোলা বা পাতলা পলিথিনে রাখা মাংস দ্রুত আর্দ্রতা হারায় এবং ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে, যা পচনের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে কিমা, কলিজা বা অঙ্গজাত মাংস আরও দ্রুত নষ্ট হয়, কারণ এগুলো বেশি সংবেদনশীল।

অনেক সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজ বারবার খোলা হয় বা দীর্ঘসময় বন্ধ থাকে না, এতে ভেতরের ঠান্ডা নষ্ট হয়ে যায়। আবার সংরক্ষণের তারিখ না লেখা, একই মাংস বারবার গলানো-জমানো কিংবা দীর্ঘদিন ফ্রিজে ফেলে রাখাও মাংস নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে।

মাংস নষ্ট হয়েছে কি না বুঝতে কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করা জরুরি—দুর্গন্ধ, রঙ ধূসর বা সবুজ হয়ে যাওয়া, গায়ে পিচ্ছিল বা আঠালো ভাব, কিংবা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া। এসব দেখা দিলে সেই মাংস আর খাওয়া উচিত নয়।

সব মিলিয়ে, কোরবানির আনন্দ যেন খাদ্য ঝুঁকিতে পরিণত না হয়, সেজন্য মাংস সংরক্ষণে একটু বাড়তি সচেতনতা খুবই জরুরি। সঠিক তাপমাত্রা, বায়ুরোধী প্যাকিং এবং সময়মতো ব্যবহার—এই কয়েকটি নিয়ম মানলেই মাংস থাকবে টাটকা, আর পরিবার থাকবে নিরাপদ।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্রিজেও মাংস পচে যায় যেসব অসতর্কতায়

প্রকাশিত: ০৫:২৩:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

কোরবানির ঈদে ঘরে ঘরে যখন ফ্রিজ ভর্তি থাকে টাটকা মাংস, তখন অনেকেই ভাবেন শুধু ফ্রিজে রাখলেই সেটা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে কিছু সাধারণ অসতর্কতার কারণেই ফ্রিজেও মাংস দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো—গরম মাংস সরাসরি ফ্রিজে ঢুকিয়ে দেওয়া। এতে ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে শুধু মাংস নয়, ভেতরের অন্যান্য খাবারও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কোরবানির পর মাংস কিছুক্ষণ স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা করে তারপর ফ্রিজে রাখা উচিত, তবে সেটি দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে না রাখাই নিরাপদ।

আরেকটি সাধারণ ভুল হলো ফ্রিজের সঠিক তাপমাত্রা বজায় না রাখা। মাংস সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের আদর্শ তাপমাত্রা ০ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ফ্রিজারের ক্ষেত্রে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি বা তার নিচে থাকা জরুরি। কিন্তু অনেকেই ফ্রিজ অতিরিক্ত খুলে রাখেন বা খুব বেশি মাংস একসঙ্গে ভরে ফেলেন, ফলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এতে মাংস দ্রুত পচে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়।

মাংস ঠিকভাবে না মোড়ানো বা বায়ুরোধী পাত্রে না রাখাও বড় একটি ভুল। খোলা বা পাতলা পলিথিনে রাখা মাংস দ্রুত আর্দ্রতা হারায় এবং ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে আসে, যা পচনের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে কিমা, কলিজা বা অঙ্গজাত মাংস আরও দ্রুত নষ্ট হয়, কারণ এগুলো বেশি সংবেদনশীল।

অনেক সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজ বারবার খোলা হয় বা দীর্ঘসময় বন্ধ থাকে না, এতে ভেতরের ঠান্ডা নষ্ট হয়ে যায়। আবার সংরক্ষণের তারিখ না লেখা, একই মাংস বারবার গলানো-জমানো কিংবা দীর্ঘদিন ফ্রিজে ফেলে রাখাও মাংস নষ্ট হওয়ার কারণ হতে পারে।

মাংস নষ্ট হয়েছে কি না বুঝতে কয়েকটি লক্ষণ খেয়াল করা জরুরি—দুর্গন্ধ, রঙ ধূসর বা সবুজ হয়ে যাওয়া, গায়ে পিচ্ছিল বা আঠালো ভাব, কিংবা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া। এসব দেখা দিলে সেই মাংস আর খাওয়া উচিত নয়।

সব মিলিয়ে, কোরবানির আনন্দ যেন খাদ্য ঝুঁকিতে পরিণত না হয়, সেজন্য মাংস সংরক্ষণে একটু বাড়তি সচেতনতা খুবই জরুরি। সঠিক তাপমাত্রা, বায়ুরোধী প্যাকিং এবং সময়মতো ব্যবহার—এই কয়েকটি নিয়ম মানলেই মাংস থাকবে টাটকা, আর পরিবার থাকবে নিরাপদ।

kalprakash.com/SS