বাংলাদেশ ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

প্রোটিন পাউডার খাওয়ার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি

সংগৃহীত ছবি

বর্তমানে ফিটনেস সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই দৈনন্দিন ডায়েটে প্রোটিন পাউডার যুক্ত করছেন। তবে সঠিক নিয়ম না জেনে বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে উপকারের বদলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুলভাবে প্রোটিন পাউডার গ্রহণের কারণে পেটফাঁপা, গ্যাস, হজমের সমস্যা এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা ও মেনে চলা জরুরি।

অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ
অনেকেই মনে করেন বেশি প্রোটিন মানেই দ্রুত পেশি গঠন বা ভালো ফিটনেস। কিন্তু বাস্তবে শরীরের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিনই ব্যবহার করার ক্ষমতা থাকে। দৈনন্দিন খাবারের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রোটিন পাউডার গ্রহণ করলে ক্যালরি ও প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে উল্টো ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

খাবারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার
সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো মূল খাবারের পরিবর্তে শুধু প্রোটিন শেকের ওপর নির্ভর করা। ভাত, মাছ, মাংস, শাকসবজি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার বাদ দিলে শরীরে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। প্রোটিন পাউডার কখনোই পূর্ণাঙ্গ খাবারের বিকল্প নয়।

পরিমাণ সম্পর্কে অসচেতনতা
একবারে বেশি প্রোটিন খেলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে—এই ধারণা ভুল। শরীর একসঙ্গে সীমিত পরিমাণ প্রোটিনই কাজে লাগাতে পারে। অতিরিক্ত অংশ অনেক সময় শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

ভুল পণ্য নির্বাচন
বাজারে অনেক প্রোটিন পাউডারে অতিরিক্ত কৃত্রিম চিনি, ফ্লেভার এবং প্রিজারভেটিভ থাকে, যা হজম ও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পণ্য নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবহারের শুরুর দিকের সতর্কতা
নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য শুরুতে অল্প পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা ভালো, যেমন সপ্তাহে দুই দিন এক স্কুপ। এরপর শরীরের সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

প্রোটিন পাউডার কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
প্রথমত, প্রোটিনের উৎস যাচাই করা জরুরি—এটি হোয়ে, সয় বা উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে তৈরি কি না। দ্বিতীয়ত, প্রতি স্কুপে অন্তত ২০ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন আছে কি না তা দেখা উচিত। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা ভালো। চতুর্থত, মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সঠিক নিয়ম মেনে প্রোটিন পাউডার ব্যবহার করলে এটি ফিটনেস ও পেশি গঠনে সহায়ক হতে পারে। তবে ভুল ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রোটিন পাউডার খাওয়ার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি

প্রকাশিত: ০৪:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

বর্তমানে ফিটনেস সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই দৈনন্দিন ডায়েটে প্রোটিন পাউডার যুক্ত করছেন। তবে সঠিক নিয়ম না জেনে বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে উপকারের বদলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুলভাবে প্রোটিন পাউডার গ্রহণের কারণে পেটফাঁপা, গ্যাস, হজমের সমস্যা এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা ও মেনে চলা জরুরি।

অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ
অনেকেই মনে করেন বেশি প্রোটিন মানেই দ্রুত পেশি গঠন বা ভালো ফিটনেস। কিন্তু বাস্তবে শরীরের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রোটিনই ব্যবহার করার ক্ষমতা থাকে। দৈনন্দিন খাবারের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রোটিন পাউডার গ্রহণ করলে ক্যালরি ও প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে উল্টো ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

খাবারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার
সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো মূল খাবারের পরিবর্তে শুধু প্রোটিন শেকের ওপর নির্ভর করা। ভাত, মাছ, মাংস, শাকসবজি বা অন্যান্য প্রাকৃতিক খাবার বাদ দিলে শরীরে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। প্রোটিন পাউডার কখনোই পূর্ণাঙ্গ খাবারের বিকল্প নয়।

পরিমাণ সম্পর্কে অসচেতনতা
একবারে বেশি প্রোটিন খেলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে—এই ধারণা ভুল। শরীর একসঙ্গে সীমিত পরিমাণ প্রোটিনই কাজে লাগাতে পারে। অতিরিক্ত অংশ অনেক সময় শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

ভুল পণ্য নির্বাচন
বাজারে অনেক প্রোটিন পাউডারে অতিরিক্ত কৃত্রিম চিনি, ফ্লেভার এবং প্রিজারভেটিভ থাকে, যা হজম ও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পণ্য নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যবহারের শুরুর দিকের সতর্কতা
নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য শুরুতে অল্প পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা ভালো, যেমন সপ্তাহে দুই দিন এক স্কুপ। এরপর শরীরের সহ্যক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

প্রোটিন পাউডার কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
প্রথমত, প্রোটিনের উৎস যাচাই করা জরুরি—এটি হোয়ে, সয় বা উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে তৈরি কি না। দ্বিতীয়ত, প্রতি স্কুপে অন্তত ২০ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন আছে কি না তা দেখা উচিত। তৃতীয়ত, অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলা ভালো। চতুর্থত, মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সঠিক নিয়ম মেনে প্রোটিন পাউডার ব্যবহার করলে এটি ফিটনেস ও পেশি গঠনে সহায়ক হতে পারে। তবে ভুল ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

kalprakash.com/SS