শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬ | ৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৮ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | ভোর ৪:০৭:৫১

লক্ষ্মীপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৯:৩২
শেয়ার: mail
লক্ষ্মীপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও  অনিয়মের অভিযোগ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত হতদরিদ্র পরিবারের পরিবর্তে প্রভাবশালী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দরিদ্র পরিবার দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরেও তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া কোথাও কোথাও কম চাল দেওয়া, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চাল না পাওয়া এবং বিতরণে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগও উঠেছে।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জানান, এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিমের স্থানীয় প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেনের লিখিত নির্দেশনায় আব্দুল রহিম মজুমদার ও সহকারী শিক্ষিকা আমেনা বেগমকে সদস্য করে ভোলাকোট ইউনিয়নের ভিজিএফ চালের কার্ড বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ইউনিয়নের ৮ ও ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতিরা অভিযোগ করে বলেন, ভিজিএফ কার্ড বিতরণের বিষয়ে তারা কোনো তথ্যই জানেন না এবং এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কেউ কোনো ধরনের যোগাযোগও করেনি। এছাড়া ইউনিয়নের অন্যান্য কয়েকটি ওয়ার্ডের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে যেখানে ২৭০টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেখানে অন্য কিছু ওয়ার্ডে মাত্র চারটি করে কার্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এভাবে কার্ড বিতরণে চরম অনিয়ম, বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আব্দুল রহিম মজুমদার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব পালন করেছি।

অন্যদিকে ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন জানান, ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম সরকার নির্ধারিত নিয়ম ও তালিকা অনুযায়ী সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন মামুন বলেন, গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি ভিজিএফ চাল নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। যদি প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়ে থাকেন, তাহলে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ভিজিএফ চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কেউ কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের হাতে কার্ড পৌঁছে না দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো ব্যক্তিদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এমনকি কিছু চাল আত্মসাতের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচিকে ঘিরে এ ধরনের অনিয়ম শুধু দুঃখজনকই নয়, এটি গরিব মানুষের অধিকার হরণের শামিল। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা যদি দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে লুটপাট হয়, তবে তা প্রশাসনের নজরদারির দুর্বলতাকেই প্রকাশ করে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভিজিএফ চাল বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

kalprakash.com/SAS

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ | Globe kalprakash.com

লক্ষ্মীপুরে ভিজিএফ চাল বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

বিস্তারিত কমেন্টে