বাংলাদেশ ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ভিদাল জানালেন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে Logo বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা, পেছনে রয়েছে যে কারণ Logo ‘মার্তিনেজের ১০ নোংরা কৌশল,’ ভয় পাচ্ছে ইংল্যান্ড Logo কুবিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ১১৭ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান Logo সুন্দরগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত Logo নবীনদের পদচারণায় মুখরিত বেরোবি ক্যাম্পাস Logo রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুভ্রা রানী চন্দ আর নেই Logo নালিতাবাড়ীতে রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা Logo ছেলের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণের জেরে বগুড়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

মানসিক চাপে কেন বাড়ে মিষ্টি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা?

সংগৃহীত ছবি

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস আধুনিক জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, আর্থিক অস্থিরতা কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মানুষ প্রায়ই স্ট্রেসে ভোগে। কিন্তু এই মানসিক চাপ শুধু মনের ওপরই নয়, শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলে—বিশেষ করে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

স্ট্রেসের সময় মস্তিষ্কের ‘হাইপোথ্যালামাস’ নামক অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনগুলো শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগানোর সংকেত দেয়। ফলে অনেক সময় মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে চিনি বা শর্করাযুক্ত খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এজন্যই স্ট্রেসের সময় অনেকের চকোলেট, পিৎজা বা অন্যান্য জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেসের কারণে খাদ্যাভ্যাসে দুই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্ষুধা কমে যায়, কারণ ‘ভেগাস নার্ভ’-এর কার্যকারিতা কমে গিয়ে মস্তিষ্ক খাওয়ার সংকেত ঠিকমতো পায় না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে উল্টোটা ঘটে—তারা অতিরিক্ত খাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে, বিশেষ করে মিষ্টি ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।

দীর্ঘদিন এই ধরনের অভ্যাস বজায় থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের শরীরে আগে থেকেই অতিরিক্ত মেদ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রেস আরও বেশি চিনিজাতীয় খাবারের চাহিদা তৈরি করে, যা এক ধরনের দুষ্টচক্রে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন। পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘুম স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমায়। নিয়মিত ব্যায়াম শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে এবং স্ট্রেস কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া জাঙ্ক ফুড চোখের সামনে না রাখা, তার পরিবর্তে ফল বা স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা উপকারী। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডাল এবং স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট যেমন ওটস খাওয়ার অভ্যাসও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে খাওয়াও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

সবশেষে বলা যায়, মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও সচেতন জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে এর নেতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিদাল জানালেন আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে কে জিতবে

মানসিক চাপে কেন বাড়ে মিষ্টি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা?

প্রকাশিত: ০৫:৪২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

মানসিক চাপ বা স্ট্রেস আধুনিক জীবনের একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের চাপ, আর্থিক অস্থিরতা কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে মানুষ প্রায়ই স্ট্রেসে ভোগে। কিন্তু এই মানসিক চাপ শুধু মনের ওপরই নয়, শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলে—বিশেষ করে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

স্ট্রেসের সময় মস্তিষ্কের ‘হাইপোথ্যালামাস’ নামক অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনগুলো শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগানোর সংকেত দেয়। ফলে অনেক সময় মস্তিষ্ক দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে চিনি বা শর্করাযুক্ত খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এজন্যই স্ট্রেসের সময় অনেকের চকোলেট, পিৎজা বা অন্যান্য জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেসের কারণে খাদ্যাভ্যাসে দুই ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্ষুধা কমে যায়, কারণ ‘ভেগাস নার্ভ’-এর কার্যকারিতা কমে গিয়ে মস্তিষ্ক খাওয়ার সংকেত ঠিকমতো পায় না। আবার অনেকের ক্ষেত্রে উল্টোটা ঘটে—তারা অতিরিক্ত খাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে, বিশেষ করে মিষ্টি ও উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।

দীর্ঘদিন এই ধরনের অভ্যাস বজায় থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে যাদের শরীরে আগে থেকেই অতিরিক্ত মেদ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে স্ট্রেস আরও বেশি চিনিজাতীয় খাবারের চাহিদা তৈরি করে, যা এক ধরনের দুষ্টচক্রে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছেন। পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘুম স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমায়। নিয়মিত ব্যায়াম শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে এবং স্ট্রেস কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া জাঙ্ক ফুড চোখের সামনে না রাখা, তার পরিবর্তে ফল বা স্বাস্থ্যকর খাবার রাখা উপকারী। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডাল এবং স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট যেমন ওটস খাওয়ার অভ্যাসও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে খাওয়াও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

সবশেষে বলা যায়, মানসিক চাপ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও সচেতন জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে এর নেতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

kalprakash.com/SS