খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বদলি এবং পুনরায় আগের কর্মস্থলে ফিরে আসার ঘটনায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিম নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হালিমা খাতুন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল কাশ্যারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে হালিমা খাতুনের বদলির আদেশ জারি হয়। একই আদেশে তাঁর পুত্রবধূ সাথী রিজোয়ানাকে পশ্চিম নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং হালিমা খাতুনকে কাশ্যারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
পরদিন ৩০ এপ্রিল হালিমা খাতুন কাশ্যারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং সাথী রিজোয়ানা পশ্চিম নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, কাশ্যারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র এক ঘণ্টা অবস্থানের পর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঝর্ণা ত্রিপুরার মৌখিক নির্দেশে আবারও পশ্চিম নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন হালিমা খাতুন। সেখানে তাঁকে মৌখিকভাবে ডেপুটেশনে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, মঙ্গলবার ও বুধবার সরেজমিনে পশ্চিম নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগমকে জানানো হলে তিনি বলেন, হাজিরা খাতায় মোট ৮০ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও সবাই বিদ্যালয়ে আসে না। বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে। তবে সামনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার পর মৌখিক নির্দেশে পুনরায় আগের কর্মস্থলে ডেপুটেশনে যাওয়ার প্রশাসনিক ভিত্তি কী? একই সঙ্গে একটি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়া হালিমা খাতুনের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি, পদায়ন ও ডেপুটেশনসংক্রান্ত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন কোনো মন্তব্য না করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে নোট নিতে বলেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতুর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল মালেক মিন্টু বলেন, ঘটনার বিষয়ে অবগত হয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা, বদলির পর স্বল্প সময়ের মধ্যে আবার পুরোনো বিদ্যালয়ে ফিরে আসা এবং মৌখিক নির্দেশে ডেপুটেশনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।