কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান মরহুম আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ মার্চ রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত ‘হোটেল ফেমাস (ফ্রেশ)’ আবাসিক হোটেলে মারা যান আনোয়ার হোসেন। পরদিন ২৬ মার্চ তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে মোহনগঞ্জে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর কোনো ময়নাতদন্ত করা হয়নি। সে সময় মরহুমের বড় ভাই মো. সাইফুল ইসলাম প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ঢাকায় অবস্থানকালে তাঁর ভাই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু মৃত্যুর প্রায় সাত মাস পর এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মরহুমের আরেক ভাই মো. রফিকুল ইসলাম (৬১) বাদী হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। সি.আর. মামলা নম্বর ৭২৮/২০২৬ (মোহাম্মদপুর আমলি) হিসেবে নথিভুক্ত এ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. শাহ আলম, যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম (শহিদ) ও মিজানুর রহমান মিজান, জামায়াত কর্মী আরিফুল কবির তালুকদার রানা, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউল আজম জুয়েল, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন বাবুল, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শামীম এবং যুবলীগ নেতা দুলাল।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁরা সবাই নির্দোষ। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তাঁদের হয়রানি করার জন্যই এ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। দ্রুত এ মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।
বক্তারা আরও বলেন, আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
অন্যদিকে মামলার বাদী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ভাই আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার পেতেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। মৃত্যুর আসল রহস্য উদ্ঘাটন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এর সঠিক আইনানুগ প্রতিকার চান তিনি।
kalprakash.com/IM